এবার বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি হানজালার

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০৬:১৭ পিএম


এবার বিএনপিকর্মীকে খেয়ে ফেলার হুমকি হানজালার
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়িয়ে বিএনপিকর্মীকে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এক মিনিটের ওই ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে বিএনপিকর্মী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিয়ে বলতে শোনা যায় দেখা যায়- ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বিএনপির ওই কর্মীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।

তার এমন বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ‘চর বাচামারা মৌলভীকান্দি’ গ্রামে তারা মিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর সঙ্গে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

সেখানে ওই এলাকার একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুইপক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিল। সালিশে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এরপরই শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় উত্তেজিত হয়ে যান সংসদ সদস্য। পরে বিএনপিকর্মী তারা মিয়াকে বেশ ধমক দেন।

ভুক্তভোগী তারা মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিশ বৈঠকে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষমেষ ১ লাখ টাকা জরিমানাও করেন। যাকে জরিমানা করেন তিনি গরিব এবং অসহায় মানুষ। তার পক্ষে এই জরিমানার অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্যসহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান। এ সময় সালিশে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

পরে ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

এদিকে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয়পক্ষই কথা বলতেছিল। তর্কে জড়াইছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission