ভোটারের হাতের কালি মোছার আগেই আমরা তিন বছরের কাজ তিন মাসে করেছি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে মাগুরা সদরের বাটিকাডাঙ্গা এলাকায় অনুষ্ঠিত মতুয়া মহাসম্মেলনে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসেছি সফল হওয়ার জন্য। একটি বিধ্বস্ত দেশ আমরা পেয়েছি। সমস্ত ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে ৬০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখানে নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। আঠারো বছর নির্বাচন হয়নি। জনগণ ভোট দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতের বেলায় কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। ভোটারের হাতের কালি মোছার আগেই আমরা তিন বছরের কাজ তিন মাসে করেছি। তারেক রহমানের সরকার অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) সমাজ গঠন করতে চায়। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি চাই। আমরা বিভাজন চাই না, অনৈক্য চাই না। আমরা সাম্য ও শান্তি চাই। আমাদের দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সে জন্য এ দেশকে একসময় সোনার বাংলা বলা হতো। এই সোনার বাংলাকে সঠিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রথমেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকার ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বয়স্কভাতা কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান এমন একটি সমাজ, যেখানে বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা, বিভিন্ন শ্রেণি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ বসবাস করবে। যার যার আদর্শ ও ভাবনা নিয়ে মানুষ বসবাস করবে—এ বিষয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে সমাজে এখনো কিছু বিশৃঙ্খলা রয়েছে, প্রশাসনেও কিছু অসঙ্গতি আছে। এগুলো একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কৃষক ও নারীদের জন্যও বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা এ দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করব।
মন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, মতুয়া ধর্ম একটি বিপ্লবী ধর্ম। সমাজের অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লব এবং নবজাগরণের ডাক দিয়েছিলেন গুরু চাঁদ ঠাকুর। তিনি শিক্ষা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। মতুয়া সম্প্রদায়সহ সকল সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী মানুষের চিন্তা বা ভয়ের কোনো কারণ নেই।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মতুয়া মাতা শ্রীমতি সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী দেবাশীষ বিশ্বাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব কিশোর প্রমুখ এবং চারণকবি শ্রী গোরাচাঁদ সরকার। এছাড়াও সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আরটিভি/টিআর




