শাহজালাল-শাহপরান মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখবে জেলা প্রশাসন

আরটিভি নিউজ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ০৯:৪৫ পিএম


শাহজালাল-শাহপরান মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখবে জেলা প্রশাসন
মাজারের দানবাক্স। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবার থেকে তদারকি করবে জেলা প্রশাসন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুই মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দানবাক্সের নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানালেও, সাতশো বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কও দেখা দিয়েছে।

অলি আউলিয়ার পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেটে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। মানত পূরণ ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে ভক্তরা দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাজার কমিটি এসব দান খয়রাতের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে আসলেও সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে খাদেম পরিচয়ে একটি সিন্ডিকেট মাজারের বিপুল অর্থ ও সম্পদ ভোগদখল করে আসছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গঠিত একটি কমিটি আগামী এক মাস মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করবে। ইতোমধ্যে পুরনো দানবাক্স সরিয়ে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, মাজারের দানের কোনো টাকা সরকার নেবে না। অনিয়ম দূর করে সব অর্থ মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি মাজারকেন্দ্রিক একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
 
একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন


অন্যদিকে শাহজালাল মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান মাজারের দান খয়রাতের অর্থ ভোগের বিষয়ে বলেন, আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। কারণ প্রতি মাসে সমান আয় হয় না। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল ও কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়। আমরা যে খাই না, তা নয়। আমরা খাই, আবার মাজারের খরচও চালাই। এভাবেই এত বছর ধরে চলে আসছে।
 
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে মাজারের আয়-ব্যয়ের কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
 
এদিকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মাজারের দানের অর্থ মাজার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি দরগাহ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই মাজারে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পে মাজার কর্তৃপক্ষের পাঁচ কোটি টাকা দেয়ার কথা থাকলেও, প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরও সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
 
সব মিলিয়ে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা দূর করতে প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর সিলেটবাসীর।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission