কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেমের শরীর থেকে এখনো গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকরা এখনো অস্ত্রোপচার করেননি। এদিকে এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রেমের বাবা ইউনুস মিয়া জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচার করা হয়নি। তিনি বলেন, ক্ষতস্থান থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। আমরা রক্ত দিচ্ছি। বড় সার্জন এলে অপারেশন করে গুলি বের করা হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
প্রেমের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেটা টিফিনের বিরতিতে বাসায় আসার পথে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে ছাড়া আমি বাঁচব না। মাঝেমধ্যে চোখ খুলছে, কিন্তু ছোট্ট শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। ছেলেটা খুব কষ্ট পাচ্ছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, গুলিটি প্রেমের ফুসফুস পর্যন্ত আঘাত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রেমের বাবা ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন অজ্ঞাতনামা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মামলার পরপর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শ্রাবণ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, গত রাতে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় 'নাগরিক কমিটি'র উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন চলাকালে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। এতে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেমসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আগের দিন রাতে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মানববন্ধন চলাকালে হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা ছোটাছুটি শুরু করেন।
গুলিবিদ্ধ ইথান আহমেদ প্রেম কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, টিফিনের বিরতিতে বাসায় যাওয়ার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। তার বাবা ইউনুস মিয়া কুমিল্লা নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডে কর্মরত।
আরটিভি/ এসকেডি



