ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ভাদাইল এলাকায় গভীর রাতে আগুনে ভস্মীভূত হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ১১টি পরিবার।
রোববার (২৮ জুন) রাত ৩টায় ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আগুনে পুড়ে ১১ টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
গভীর রাতে লাগা এক আকস্মিক আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই নিঃস্ব হয়ে গেছে ১১টি পরিবার। চোখের পলকে ছাই হয়ে গেছে মাথা গোঁজার ঠাঁই, সেই সঙ্গে আয়ের একমাত্র উৎস টুকু। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এলাকার অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সরু রাস্তা, যার কারণে চাইলেও সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।
সূত্র জানায়, ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল আক্কাস আলী মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই সুরুজ মিয়ার বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সুরুজ মিয়ার বাড়ির ৮টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ৩টি দোকান আগুনে পুড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা চোখের সামনে তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ও বসতভিটা পুড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আগুনে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর পেয়ে ঢাকা ইপিজেডের ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুততার সঙ্গে রওনা হলেও মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাদাইল এলাকার অপরিকল্পিত ও সুরু রাস্তা। অগ্নিকাণ্ডের মূল পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ঢোকার মতো ন্যূনতম জায়গা ছিল না।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রাস্তা অত্যন্ত সুরু হওয়ার কারণে আমাদের গাড়ি মূল ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারেনি। তবে আমরা দূর থেকেই পাইপের মাধ্যমে দ্রুত পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যদি রাস্তাটি প্রশস্ত ও পরিকল্পিত হতো, তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সরাসরি বাড়ির সামনে পৌঁছাতে পারতো। এতে আগুন এত দ্রুত ছড়াতে পারতো না এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল।
আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস সূত্রে।
আরটিভি/এসএস




