ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে।
নিহত হাদিস মিয়া (৩০) সরাইলের ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, সরাইলের সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন একই উপজেলার ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার চটাপাটি বিক্রি করেছিলেন। তবে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে পাওনা টাকা চাইতে থাকলেও তিনি টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না।
রোববার বিকেলে সরাইল শহীদ মিনার এলাকায় মোশারফ হোসেনের সঙ্গে আশিক ও আলালের দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার খবর দুই পক্ষের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টেঁটাযুদ্ধ। সংঘর্ষ চলাকালে আশিক-আলালের পক্ষের হাদিস মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ এবং জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি জানান, এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



