হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ভোলারজুম গ্রামে একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করা সেই মায়া হরিণকে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের বনে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও সেবাযত্ন শেষে হরিণটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। এটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত। এখানে প্রাকৃতিকভাবে বেশ কিছু মায়া হরিণের বসবাস রয়েছে।
বন বিভাগ গোপন সংবাদ পায়, উপজেলার ভোলারজুম গ্রামের ইয়াকুত মিয়ার ঘরের একটি কক্ষে একটি মায়া হরিণ আটক করে রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগের একটি দল সেখানে গিয়ে হরিণটি উদ্ধার করে কালেঙ্গা রেঞ্জ কার্যালয়ের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যায়।
কালেঙ্গা বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল আমিন জানান, হরিণটি উদ্ধারের পর কালেঙ্গা রেঞ্জের রেসকিউ সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হরিণটি সুস্থ হলে আবার বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
চুনারুঘাট বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং গণমাধ্যমকর্মী আবদুল জাহির মিয়ার ভাষ্য, লোকালয় বা চোরাশিকারিদের কবল থেকে কোনো হরিণ উদ্ধার হলে দ্রুত স্থানীয় বন বিভাগ, পুলিশ বা প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থাকে জানানো উচিত। আহত হরিণের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা না দিয়ে অভিজ্ঞ বনকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়াই নিরাপদ।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, বন্য প্রাণী আটক বা শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিকভাবে আরও বেশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
কালেঙ্গা বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, হরিণটি সুস্থ থাকায় সোমবার বিকেলে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের নিরাপদ এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে। সম্ভবত খাদ্যের সন্ধানে অথবা পথভুলে হরিণটি লোকালয়ে চলে এসেছিল। স্থানীয় মানুষ সচেতনতার পরিচয় দিয়ে প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না করে বন বিভাগকে খবর দিয়েছেন। তাদের এই মানবিক ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত না করে বা আটকে রেখে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএ




