ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের নাগরিক হয়েও বহাল তবিয়তে খুলনার ‘দুর্নীতিবাজ’ এই শিক্ষক

পাইকগাছা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
দীপক চন্দ্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তিনি একা নন তার স্ত্রী-কন্যা, ভাই-ভাবিসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে আবার এদেশেও রয়েছে তাদের নাগরিকত্ব। এদিকে স্কুল চালাতে গিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নানা সময়ে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও চাকরিতে বহাল থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, পাইকগাছার লস্কর উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তার। উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২নং বরশুল গ্রামের ১নং মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা তিনি। একই ব্যক্তি পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার।

এদিকে দীপকের স্ত্রী অপর্ণা সরকার, মেয়ে জয়শ্রী সরকার, বড় ভাই দুলাল চন্দ্র সরকার, ভাবী সুশীলা সরকার, ছোট ভাই তাপস সরকার ও তার স্ত্রী বর্ণালী সরকার সবাই স্থায়ীভাবে ভারতের নাগরিক ও ভোটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবার ভারতে পাঠিয়ে দিলেও দেশে বসে স্কুলকে পুঁজি করে তিনি অর্থবিত্ত তৈরি করছেন। স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ২০২৪ সালে স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দেওয়া হয়। গোপনীয়তা বজায় রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হলেও ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিবাদের মুখে তিন পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলেও দীর্ঘদিন পরেও চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে তাদেরকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এই নিয়োগে অন্তত ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে স্কুলে প্রণোদনা অনুদান বাবদ বরাদ্দ পাঁচ লক্ষ টাকা খরচের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রণোদনার দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় হলেও বাকি টাকায় কাজের নামে চলেছে নয়ছয়। যার বিল ভাউচার যথাযথ নয় বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়।

স্থানীয় প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, হেড স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি দ্বৈত নাগরিক। অন্য দেশের নাগরিকের বাংলাদেশ সরকারের বেতন ভাতা নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি ওপারে পাচার করেন। স্কুলের নামে বরাদ্দ এলে ভুয়া বিল ভাউচার করে তহবিল তছরূপ করেন। এ নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দিলেও ফলাফল শূন্য।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স কর্মকর্তা মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত টিম ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান আরও একটি তদন্ত করেন।

এছাড়া চলতি ২০২৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরিত প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব রয়েছে বলে ভোটার তালিকা থেকে জানা যায়। এমপিও সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত।

এদিকে ইউএনওর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার মহাপরিচালককে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। তবে চার মাস পরেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এ দেশের নাগরিক। ভারতের ভোটার না। স্কুলের অনুদান আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও সত্য নয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে লুকানো ছিল বিপুল ভারতীয় মোবাইল, ঘটনা কী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মোবাইল ফোনের সংখ্যা পাঁচ হাজার পাঁচটি। এসব মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি ৮০ হাজার টাকা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)। বেলা ১২টায় ২৫ বিজিবির প্রধান কার্যালয়ে অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাব্বাব আহমেদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।  বিজিবি জানায়, মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তের নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) সদস্যরা নিয়মিতভাবে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরাইল ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার কামালমোড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।  এ সময় সীমান্ত পিলার-২০০৮/১-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মোবাইল ফোন ডিসপ্লের একটি চালান আটক করা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় কর্দমাক্ত অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা মালিকবিহীন ভারতীয় অবৈধ মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মোট ৫ হাজার ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করতে সক্ষম হয় বিজিবি। চার কোটি ৮০ হাজার টাকার এসব চোরাচালান মালামাল আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিজিবি আরও জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি মালামাল আটক করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএস
সীমান্তে লুকানো ছিল বিপুল ভারতীয় মোবাইল, ঘটনা কী
পথ ভুলে নেটওয়ার্কের বাইরে দুই পর্যটক, উদ্ধারে ৬ ঘণ্টার অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঝরঝরি ঝর্ণায় ঘুরতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পথ হারায় দুই পর্যটক। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ। 
পথ ভুলে নেটওয়ার্কের বাইরে দুই পর্যটক, উদ্ধারে ৬ ঘণ্টার অভিযান
মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ ৯ জন হাসপাতালে
বগুড়ার ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ ৯ জন হাসপাতালে
গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সোর্স ব্রেকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা শহর মাইজদী ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিকল হয়ে পড়া ব্রেকারটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত রোটেশন ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়
ঝিনাইদহে ট্রেন কাটা পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন সেই নারীর মৃত্যু
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় পা পিচলে পড়ে দুই পা হারিয়েছেন রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামে এক যাত্রী মারা গেছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত হয়েছেন। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামি কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন ওই নারী।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে স্টেশন থেকে বিরতীর পর যাত্রা শুরু করলে ওই নারী ট্রেনে উঠতে যান। এসময় অসাবধনতায় পা পিচলে নীচে পড়েন। প্লাটফর্ম থেকে নীচে পড়ে গেলে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তার একটি হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাবেয়া খাতুন, রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে।  মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার নয়ন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ওই নারীকে হাসপাতালে নেয়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়া যশোর সদর হাসপাতালে  রেফার করা হয যশোর সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে চুডা মন কাঠি  নামক স্থানে পৌঁছালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অ্যাম্বুলেন্স ভিতর মারা যান লাশ কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মর্গে রাখা হয়েছে। আরটিভি/এসকে
ঝিনাইদহে ট্রেন কাটা পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন সেই নারীর মৃত্যু
আরও পড়ুন
পুলিশ সেজে ট্রেনে জরিমানা আদায়, টাকা না পেয়ে ট্রেন থেকে যাত্রীকে ধাক্কা
পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ!
কাজীদের ক্ষমতা শেষ, ভারতে মুসলিমদের বিয়ে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত!
আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক বানিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে যুক্তরাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয়