ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার খবরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। এ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে নেতা–কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেন।
এ রায় ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) সংসদীয় আসনের দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগাহাট এলাকায় তার অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা গাছ চেইনসো (গাছ কাটার ইলেকট্রনিক করাত) দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের গাছ কেটে সেগুলোর গুঁড়ি সড়কের উপর ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পুরো গাছ কেটেও রাখা হয়েছে সড়কে।
বাড়বকুণ্ড বাজারে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
সড়ক অবরোধের কারণে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। উভয়দিকে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ দিন বিকেলে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সামনের থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
একই সময়ে আলমগীর মেম্বারের নেতৃত্ব কুমিরা এলাকার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
ভাটিয়ারীতে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অবিলম্বে আপিল বিভাগের রায় বাতিল করে লায়ন মো. আসলাম চৌধুরীকে শপথ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহবান জানান।
মো. আলীর সভাপতিত্বে এবং শহীদুল ইসলাম শহিদের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফিরোজুল আলম, নাছির সওদাগর, সোলেমান, হানিফ মাঝি, মো. ইউনুছ, মো. ওয়াসিম, মো. শাওন, অনিক, মো. কফিল উদ্দিন, মহিলা দল নেত্রী লাকি আক্তার, মুন্নি আক্তারসহ নেতারা।
কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, আমরা এই রায় মানি না। আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ। তিনি ৯ বছর জেল খেটেছেন। তার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তার যা কিছু ছিল, অবৈধ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। এক কালো ষড়যন্ত্রে শুনতে পাই, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। জনতার রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে, এ আশা রাখছি।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এমএ হক বলেন, মহাসড়কের উভয়পাশে পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।
আদালতের রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই আসনের ফলাফল এখন পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।
আরটিভি/এমএম




