ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ না পেয়ে ইউপি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম


ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ না পেয়ে ইউপি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
ফাইল ছবি

বরিশালের মুলাদীতে ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ দিতে রাজি না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন মো. জাকির হোসেন সিকদার নামে এক ইউপি কর্মকর্তা। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউপি পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুত করার সময় ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার ও তার লোকজন মারধর ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন জাকির হোসেন সিকদার।

এ ঘটনায় জাকির হোসেন বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য ৩ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তার অফিস কক্ষে বসে ওই চাল প্রদানের জন্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। ওই সময় বেল্লাল হোসেন সরদার ও সুজন চৌকিদারসহ ৫-৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী হঠাৎ তার রুমে প্রবেশ করেন। কার অনুমতিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে— তা জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তারা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। 

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদারের আগেও তার অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করেছিল। এছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা দিয়ে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল তাদের দেওয়ার দাবি করেছিল। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদি ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, নদী ভাঙন কবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে ৩ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ওই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২০ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। চেয়ারম্যন পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর পর ওই ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করার হুমকি দেন।

মুলাদী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। আমি অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়েছিলাম। আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রদল সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার আমি পরিষদে যাইনি। তবে ওই দিন কয়েকজনের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথার কাটাকাটি ও হাতাহাতির বিষয়টি শুনেছি। আমি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।’

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, মারধর ও প্রাণ নাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission