ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ, অতঃপর...

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১০ পিএম


ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ, অতঃপর...
ছবি: আরটিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র (বন্দুক) প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার জুমগাঁও সীমান্ত এলাকার এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম হেলাল আহমদ (২০)। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পুলিশ তাকে আটক করে। অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ধারণ বা ছবি তোলার সঠিক তারিখ ও স্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেসবুকে প্রচারিত অস্ত্রগুলো (এক নলা বন্দুক) ভারতের খাসিয়াদের এবং ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে।

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির জানান, ফেসবুকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওর স্থানটি জুমগাঁও সীমান্তের বিপরীতে ভারতের খাসিয়াদের সুপারি বাগান এলাকা।

সীমান্তের একাধিক বাসিন্দা জানান, বন্দুক নিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের স্থানটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিল জেলা, মৌসিনরাম থানার মৌডন এলাকা হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে হেলাল আহমদের ভাই সুজন মিয়া সম্প্রতি তার ফেসবুক স্টোরিতে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়ার একটি ছবি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও সেলফি তোলার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে হাতে ব্যাগ ও কাঁধে এক নলা বন্দুক নিয়ে হাঁটতে দেখা যায় সাতজনকে। পেছনের দুইজন জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার যুবক, যাদের হাতেও বন্দুক ছিল। পরে তিনজনের হাতে বন্দুক থাকার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এরপর পুলিশ সুজন মিয়ার ভাই হেলাল আহমদকে আটক করে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার ওসমান মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম সীমান্ত এলাকায় ভারতের খাসিয়াদের পাশে বসে বন্দুক কাঁধে নিয়ে ছবি তোলেন। একইভাবে বন্দুক কাঁধে নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশ করেন হেলাল আহমদ এবং তার ভাই সুজন মিয়া। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হেলাল আহমদকে আটক করা হলেও অন্য দুইজন আত্মগোপনে চলে যান। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, যারা ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও দিয়েছে, তারা সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের খাসিয়াদের সুপারি বাগানে কাজ করে। তারা শখ করে খাসিয়াদের বন্দুক নিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করেছে, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার এক যুবকের ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশের বিষয়টি নজরে আসার পরই পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। অস্ত্রের সঙ্গে ছবি তোলার স্থান ভারতের অভ্যন্তরে এবং অস্ত্রগুলো ভারতীয় খাসিয়াদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে অস্ত্রের ভিডিও ও ছবি তোলার বিষয়টি বিজিবি তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার একজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আটক হেলাল আহমদের ভাই সুজন মিয়া ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে এবং অস্ত্র ভারতীয়দের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission