পাকা হয়নি শিলংদহ-গুড়পিপুল সড়ক, ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৪ পিএম


পাকা হয়নি শিলংদহ-গুড়পিপুল সড়ক, ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
ছবি: আরটিভি

দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শিলংদহ-গুড়পিপুলের প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি এখনো পাকা হয়নি। ফলে বছরের ছয় থেকে সাত মাস কাদামাটিতে একাকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে এবং মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি ও শিশুদের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ-গুড়পিপুল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই সড়ক দিয়ে শিলংদহ, গুড়মা, আড়ংগাইল, ক্ষীরশিন, গুড়পিপুল, দোগাড়িয়াসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের চলাচল।

এ ছাড়া এই সড়ক ব্যবহার করে শিলংদহ, গুড়মা ও ক্ষীরশিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৬০ থেকে ৩৮০ শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। একই সঙ্গে গুড়পিপুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ জন এবং আড়ংগাইল দাখিল মাদ্রাসার প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

শিলংদহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, এই সড়ক দিয়েই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য গুড়পিপুল, কাঁটাগাড়ি, গুল্টাসহ আশপাশের কয়েকটি হাট-বাজারে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

দোগাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক তাজআমিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে টানা বৃষ্টির কারণে শিলংদহ-গুড়পিপুল সড়কে হাঁটুসমান কাদা জমে আছে। ফলে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন না।

ক্ষীরশিন গ্রামের কৃষক অনিমেষ সিং বলেন, ধান বিক্রি করতে না পেরে অনেক কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

শিলংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সীমা বালা, পারুল খাতুন, রিপন সিং, পবন চন্দ্র ও অকিল চন্দ্র মাহাতোসহ অনেকেই জানায়, কাঁচা সড়কের কারণে কাদামাটি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতেই ইচ্ছা করে না। উপজেলার অনেক সড়ক পাকা হলেও আমাদের এই সড়কের দুরবস্থা কারও নজরে পড়ছে না। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানাই।

এদিকে এলাকার শিক্ষক আব্দুল হান্নান, গ্রামপ্রধান আব্দুল মালেকসহ স্থানীয়রা বলেন, সড়কটি পাকাকরণের দাবিতে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক বলেন, সড়কটি পাকাকরণে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে সড়কটি পাকাকরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

তাড়াশ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission