সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় নৌকায় তুলে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে হেলিম মিয়া (১৯) নামে এক মাঝিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হেলিম উপজেলার ৪ নং শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আত্মীয়র বাসায় আসার উদ্দেশ্যে কান্দিগাঁও নৌকা ঘাটে যান। বৃষ্টির জন্য একটা টং দোকানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সিরিয়ালের নৌকা না থাকায় হেলিম মিয়ার নৌকা রিজার্ভ করেন। এরমধ্যে আরেকজন লোক শাল্লা যাবেন বলে মাঝিকে (হেলিম) বলেন। মাঝি তাকে অন্য নৌকায় যাওয়ার কথা বলেন এবং যাত্রীর (পিন্টু) অনুরোধে মাঝি ১শ টাকা ভাড়া দাবি করেন। ওই যাত্রী ৫০ টাকা বললে তখন মাঝি শর্ত সাপেক্ষে নৌকা চালানোর কথা বলে যাত্রীকে নৌকায় উঠান। কান্দিগাঁও হতে একটু দূরে কান্দখলার হাওরের মধ্যে যাওয়ার পরই নৌকার ভেতরে বসা অবস্থায় ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন মাঝি হেলিম মিয়া। চিৎকার শুনে নৌকার পেছনে বসে থাকা আরেক যাত্রী পিন্টু দাস গিয়ে হেলিম মিয়ার থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমি শাল্লায় বেড়াতে এসেছি। যোগাযোগের অন্য মাধ্যম না থাকায় শাল্লায় যাওয়ার জন্য একটি নৌকা রিজার্ভ করি। হাওরের মধ্যে এনে নৌকার ভেতরে আমাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি করেন মাঝি হেলিম মিয়া। পরে চিৎকার শুরু করলে নৌকায় থাকা আরেক যাত্রী পিন্টু দাস এসে মাঝি হেলিমকে ধমক দিয়ে পেছনে যেতে বলেন। এরপর আমি আত্মীয়কে ফোনে ঘটনা বলার পর মাঝি মেশিন বন্ধ করে দেন এবং অস্বীকৃতি জানান শাল্লায় না যেতে। পরে নৌকায় থাকা যাত্রী পিন্টু দাসের অনুরোধে শাল্লা গুদাম ঘাটে আমাকে নিয়ে যায়। এ সময় আমার আত্মীয় ও স্থানীয় কিছু লোক আমাকে উদ্ধার করেন।
তবে নৌকায় থাকা যাত্রী পিন্টু দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং-০৬। আমরা অভিযুক্ত হেলিমকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরটিভি/এসএস




