লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আক্তার হোসেন মিলন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসা অফিসকক্ষে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকাল ৫টায় উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষে সদস্যপদের ফরম পূরণের মাধ্যমে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এ সময় জামায়াত নেতারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে বরণ করে নেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য নয়। মাদরাসার অফিসকক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন শিক্ষক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। এর মধ্যে হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অফিসকক্ষে এক দল থেকে অন্য দলে যোগদানের অনুষ্ঠানও একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। এছাড়া ঘটনার সময় মাদরাসার অধ্যক্ষ নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অফিসকক্ষে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা মিলন জামায়াতের সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। পরে তিনি পূরণ করা ফরম জামায়াত নেতাদের হাতে তুলে দেন। এ সময় জামায়াত নেতারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। মিলন হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনবার নির্বাচন করলেও একবারও নির্বাচিত হতে পারেননি।
ঘটনার সময় হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ জায়েদ হোসাইন ফারুকী, বর্তমান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির এবং মাতাব্বরনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলী হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদরাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কমলনগর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, মিলন জামায়াতের নীতি-আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। জামায়াতে ইসলামী তাকে সাদরে গ্রহণ করেছে।
সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া আক্তার হোসেন মিলন সাংবাদিকদের বলেন, এখন বয়স হয়েছে। বাকি জীবন জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চাই। এখানে আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছিল। ওই পদের কোনো সুফল আমি নিইনি। এর কয়েক দিন পরই কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিনের ভাই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সভাপতি করা হয়।
আরটিভি/টিআর




