নাপিত ডেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতি, স্কুলে হাতাহাতি

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ১০:১৭ এএম


নাপিত ডেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতি, স্কুলে হাতাহাতি
শিক্ষার্থীদের চুল কাটানোর খবরে স্কুলে আসেন ক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা : ছবি সংগৃহীত

বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের জোর করে চুল কাটানোর ঘটনা ঘটেছে। আর এই কাজ করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক এক সভাপতি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঝিনাইদহের শৈলকূপার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি শ্রেণিকক্ষে ডেকে নেন। পরে পাশের বাজার থেকে দুজন নাপিত এনে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের চুল কাটানো শুরু হয়।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চুল কাটার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন

ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিন হোসেন জানায়, আমাদের কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী সাকিন হোসেন বলে, পাশের বাজার থেকে নাপিত ডেকে এনে আমাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি বলেন, গতকাল (বুধবার) অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, যারা এলোমেলোভাবে চুল রাখে, তাদের চুল পরিপাটি করে কেটে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ লেখা সংবলিত মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসাও বন্ধ করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ কাজ করা হয়েছে। আমি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই উদ্যোগটি নিয়েছি। 

হাতাহাতির বিষয়ে তিনি বলেন, একজন অভিভাবক এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা মোটেই কাম্য ছিল না। তবে সাবেক সভাপতি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যেই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করছি এবং দ্রুত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছি।

শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক বিকেলে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission