মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১৫ গ্রাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৪১ পিএম


মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১৫ গ্রাম
ছবি: আরটিভি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। জেলার মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুক্রবার ( ১০ জুলাই) বিকেল ৫টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী মনু নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। যদিও ধলই ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে উজানের ঢলের কারণে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ( ১০ জুলাই) রাতে জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক পরিবার গভীর রাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। প্লাবিত এলাকায় বসতঘর, রান্নাঘর, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

Moulvibazar__Flood-02

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল বাঁধ দিয়ে আকস্মিকভাবে পানি প্রবেশ করায় শ্রীপুর, গোলের হাওর, ভান্ডারীগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। টানা দুই দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা সড়ক এবং ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং কনকপুর ইউনিয়নের শাহ বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার তুলে দেন।

পরে জেলা প্রশাসক রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় ভেঙে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

Moulvibazar__Flood-01

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী (প্রয়োজনে), পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission