ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে বাণিজ্যের অভিযোগ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২৭ পিএম


ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে বাণিজ্যের অভিযোগ
ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার কথা বলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকার বা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কোনো ফি না থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়মবহির্ভূতভাবে এই অর্থ আদায় করেছে।

রোববার (১২ জুলাই) ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এ অভিযোগ করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ১৮ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। ১৮ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো ব্যবহারিক পরীক্ষার আয়োজন করবে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সরকার নির্ধারিত সব ধরনের ফি পরিশোধ করার পরও আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই।

পরীক্ষার্থী মো. উজ্জ্বল বলেন, আজকে আমাদের আইসিটি শিক্ষক ইমাম হোসেন ব্যবহারিক পরীক্ষার সিট দেওয়ার সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে একই অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী সানজিদা, সাদিয়া ও রাকিব। তারা বলেন, স্যারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এটি আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা। কিন্তু আমরা ফরম পূরণের সময়ই সব নির্ধারিত ফি দিয়েছি। এরপর আবার অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, দুলারহাট মডেল কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ২৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩০ জন। 

সে হিসেবে শুধু নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই যদি জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে মোট আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক প্রভাষক বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষা বোর্ড কোনো অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করেনি। তারপরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এতে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়টি কলেজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত আইসিটি শিক্ষক ইমাম হোসেন কলেজ ত্যাগ করেন। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে দুলারহাট মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইউছুফ আলী বলেন, আইসিটি শিক্ষক কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় টাকা নিয়েছেন, সেটি আমি হিসাব দেখে বলতে পারব।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি।

আরও পড়ুন

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য এ ধরনের কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি আজই জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission