মাদারীপুরে দুই বছর আগে স্বামীকে তালাক দিয়ে বিয়ে করলেও এখনো স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়ায় স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক নারী।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রানী আক্তার ও পার্শ্ববর্তী মধ্যচক গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের মধ্যে ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে রানীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয় তার পরিবার।
রানী আক্তারের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়িতে কুৎসা রটিয়ে তার সংসার ভেঙে দেন স্বপন খান। পরে গত ২০২৪ সালের ২০ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার একটি কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন স্বপন। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বপন তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে টালবাহানা করতে থাকেন। বহুবার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্বপনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন তিনি।
রানী আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২৩ সালে আমার আগের স্বামীর কাছে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে সংসার ভেঙে ছাড়িয়ে আনে। পরে ২০২৪ গোপনে বিয়ে করে স্বপন। এরপর আমার বড় ভাশুর (স্বপনের বড় ভাই) লিবিয়ায় ধরা পড়ার পর আমাদের বাড়ি গিয়ে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আনেন স্বামী ও শাশুড়ি (স্বপন ও তার মা)।
তিনি আরও বলেন, এখন আমার স্বামীকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করতেছে তার পরিবার। আর আমার স্বামী আমাকে বলে তোমাকে বাড়ি নিলে আমাকে তাড়িয়ে দেবে। কিন্তু আমি তো প্রেমিকা না, বিয়ে করা বউ। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই। এর আগে আমি বিচার দাবিতে স্থানীয় মেম্বারের কাছে গিয়েও কোনো ফলাফল পাই নাই। যদি সঠিক বিচার না পাই তাহলে এই বাড়িতেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।
স্বপন খানের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে বলেন, ওদের ৫ বছরের সম্পর্ক ছিল কিন্তু আমরা তো জানতাম না। এখন ছেলের জন্য বিয়া ঠিক করছি আর এই মেয়ে বলে তাকে না কি বিয়া করছে। গোপনে বিয়ে করে থাকলে আমার ছেলে ওই মেয়ে নিয়া যেখানে মন চায়, সেখানে গিয়া থাকুক। ওই মেয়ে এই বাড়িতে আসবে কেন? এইটা স্বপনের বাড়ি না।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



