ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। কোথাও সবজিখেত, কোথাও পাটখেত তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদ–নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই নদ–নদীতে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বেড়েছে। ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ৯ মিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ–নদীর পানি সমতলে বাড়ছে। নদ-নদীর পানি আরও বাড়লে বিশেষ করে তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ হাজীরবাজার, কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ায় চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়ন, চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাটি ও কড়াইবরিশাল চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক মাসের ভাঙনে চিলমারী ইউনিয়নের শতাধিক বসতবাড়ি এবং একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়েছে।

আরও পড়ুন

চিলমারী উপজেলার শাখাহাটি চর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান (৫৫) বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১৫ বার বসতভিটা হারিয়েছি। এবার শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

উলিপুর উপজেলার থেঁতরাই ইউনিয়নের জুয়ান সতরার চর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, কয়েক দিন আগে একটা বন্যা হয়ে গেল, ভাবছিলাম আর বন্যা হবে না। তাই জমিতে শাকসবজি লাগাইছিলাম। আবার গতকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের কী হবে, আল্লাহ ভালো জানেন।

এদিকে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। তবে গতকাল সোমবার রাত থেকে নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গতকাল মাত্র ৫০টি পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ৫টি প্রধান নদ-নদীর দুই তীরের মোট দৈর্ঘ্য ৩৭৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢলে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চার কিলোমিটারে কাজ চলছে। বাকি দুই কিলোমিটারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীদের মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
দেশে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হঠাৎ এমন অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর কারণে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ শেষ হতে পারে। তবে সেতুর কাজ এগোলেও নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকের চাপে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের আপত্তি রয়েছে। লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। প্রকাশ সরকার সংশয় নিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মুল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনো করা হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে সেটাই ভাবছি। লাভলু সানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ব্রিজ হচ্ছে। সংযোগ সড়ক হচ্ছেনা। ফলে কয়রা উপজেলায় মানুষ এখন এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। এ ছাড়া সেতু নির্মাণের কারণে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে সেতুটির অবস্থান। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে। ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে। পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন। প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী বলেন, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আরটিভি/এমএইচজে
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে, যারা দেশের মানুষকে গুম, খুন করেছে সেই ফ্যাসিস্টদের সাথেও তারা হাত মিলিয়েছে।
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন
৩ বছর ধরে অচল ৫ কোটি টাকার পানি প্রকল্প
স্রোতে ভেসে যাওয়া হাতিশাবককে বাঁচাতে ৩ কিলোমিটার ছুটলেন জেলেরা
পানির ৩৩ ফুট গভীরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল চীনা সোলার প্যানেল
‘এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী’