কান্না থামাতে মাদরাসা ছাত্রের মুখে কলম গুঁজে দেন শিক্ষক

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০৮ পিএম


কান্না থামাতে মাদরাসা ছাত্রের মুখে কলম গুঁজে দেন শিক্ষক
চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানা। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার এক ‘শিক্ষকের বেত্রাঘাতে’ সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে গেছে। এ সময় কান্না থামাতে শিশুটির মুখে কলম গুঁজে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

একটু ‘দুষ্টু স্বভাবের’ ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদ আশ্রয় ও শিক্ষার আশায় স্থানীয় ওই মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন তার বাবা।

১১ জুলাই সকালে ঘটনার দিনই অভিযোগের মুখে থাকা মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির বাবা।

সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেছেন, “ছেলেটি পড়ার সময় ‘অমনোযোগী’ থাকায় তাকে আমি বেত দিয়ে দুটি বাড়ি দিয়েছি। একটি হাতে লেগেছে, আরেকটি নড়াচড়া করায় অন্য জায়গায় লেগেছে।”

এ প্রসঙ্গে সাটুরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মামলা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তবে তারা এখনও আসেননি। তারা এলে মামলা নেওয়া হবে।”

ঘটনার বর্ণনায় শিশুটির বাবা বলছেন, “ঘটনার দিন ছেলে মাদরাসায় গিয়ে আবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে। পরে সে জানায়, সে আর কখনো মাদরাসায় যাবে না। এ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। বারবার জানতে চাওয়ার পর এক পর্যায়ে সে পুরো ঘটনাটি আমাদের জানায়।”

তিনি বলেন, এরপর ছেলের বাম হাত ফুলে যাওয়া এবং সেখানে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন দেখতে পান। পিঠেও ছিল বেতের আঘাতের দাগ। পরে তাকে মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি বলছে, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ মোটা বেত দিয়ে প্রথমে পিঠে, পরে হাতে আঘাত করেন। পরে গালে একটি থাপ্পর দেন। এতে ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে ওই শিক্ষক তার মুখে একটি কলম গুঁজে দেন। পাশাপাশি হুমকি দেন যে, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের কলমটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও পেটানো হবে।

এ ঘটনার পর শিশুটি শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা।

তিনি বলেছেন, “আমার ছেলে এখন মাদরাসার নাম শুনলেই ভয় পায়। আর ওই শিক্ষকের নাম শুনলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”

ছেলেটি ব্যাথায় চিৎকার করার পরও কেন তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “তখন বুঝতে পারিনি ছেলেটির হাতের হাড় ফেটে গেছে। এটা পরে শুনেছি। এটা আমার অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক ঘটনাটিকে অন্যায় বলে স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহ হুজুর নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission