ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কান্না থামাতে মাদরাসা ছাত্রের মুখে কলম গুঁজে দেন শিক্ষক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানা। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার এক ‘শিক্ষকের বেত্রাঘাতে’ সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে গেছে। এ সময় কান্না থামাতে শিশুটির মুখে কলম গুঁজে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

একটু ‘দুষ্টু স্বভাবের’ ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদ আশ্রয় ও শিক্ষার আশায় স্থানীয় ওই মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন তার বাবা।

১১ জুলাই সকালে ঘটনার দিনই অভিযোগের মুখে থাকা মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির বাবা।

সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেছেন, “ছেলেটি পড়ার সময় ‘অমনোযোগী’ থাকায় তাকে আমি বেত দিয়ে দুটি বাড়ি দিয়েছি। একটি হাতে লেগেছে, আরেকটি নড়াচড়া করায় অন্য জায়গায় লেগেছে।”

এ প্রসঙ্গে সাটুরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মামলা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তবে তারা এখনও আসেননি। তারা এলে মামলা নেওয়া হবে।”

ঘটনার বর্ণনায় শিশুটির বাবা বলছেন, “ঘটনার দিন ছেলে মাদরাসায় গিয়ে আবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে। পরে সে জানায়, সে আর কখনো মাদরাসায় যাবে না। এ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। বারবার জানতে চাওয়ার পর এক পর্যায়ে সে পুরো ঘটনাটি আমাদের জানায়।”

তিনি বলেন, এরপর ছেলের বাম হাত ফুলে যাওয়া এবং সেখানে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন দেখতে পান। পিঠেও ছিল বেতের আঘাতের দাগ। পরে তাকে মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি বলছে, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ মোটা বেত দিয়ে প্রথমে পিঠে, পরে হাতে আঘাত করেন। পরে গালে একটি থাপ্পর দেন। এতে ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে ওই শিক্ষক তার মুখে একটি কলম গুঁজে দেন। পাশাপাশি হুমকি দেন যে, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের কলমটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও পেটানো হবে।

এ ঘটনার পর শিশুটি শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা।

তিনি বলেছেন, “আমার ছেলে এখন মাদরাসার নাম শুনলেই ভয় পায়। আর ওই শিক্ষকের নাম শুনলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”

ছেলেটি ব্যাথায় চিৎকার করার পরও কেন তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “তখন বুঝতে পারিনি ছেলেটির হাতের হাড় ফেটে গেছে। এটা পরে শুনেছি। এটা আমার অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক ঘটনাটিকে অন্যায় বলে স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহ হুজুর নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রেখে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘কমিশন’ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন উমেদার রূপণ দাশ। ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ দাবি করেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তারা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি। অভিযান পরিচালনাকারী ফাঁদ টিমের নেতৃত্বে থাকা দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বলেন, পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য তারা দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এক ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রথমে হটলাইন ১০৬ এবং পরে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলে হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম জানিয়েছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থ নেওয়ার সময়ই দুদকের দল কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এদিকে উমেদার রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে রূপণ দাশ আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা তার বাসায় গিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, দলিলটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পরে মামলা করা হয়। বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান জবানবন্দি দেননি। অপর দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আরটিভি/এসআর
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্র থেকে তাকে পাঠানো এক নোটিশে এ বার্তা দেওয়া হয়। এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আরও বলা হয়, অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের ওই কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। আরটিভি/এসআর
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেলেন মিষ্টি কেড়ে খাওয়া সেই কিশোর
ক্ষুধার তাড়নায় খাবারের প্যাকেট ভেবে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্যাকেট কেড়ে নিয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। পরে সেটি খুলে দেখেন, ভাত নয়-ভেতরে রয়েছে মিষ্টি। প্রচণ্ড ক্ষুধায় সেখান থেকে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলি) আদালতে শুনানি শেষে বিচারক সঞ্জয় পাল তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন।  এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে ১০০ টাকা সহায়তা করেন। সেই অর্থ থেকেই জরিমানার ৫০ টাকা পরিশোধ করে মুক্ত হন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর রেলস্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। নড়াইলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে তিনি যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন।  একপর্যায়ে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেও তার কাছে খাবার কেনার টাকা ছিল না। এ সময় খাবারের প্যাকেট মনে করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্যাকেট কেড়ে নেন তিনি। পরে প্যাকেট খুলে মিষ্টি দেখতে পান এবং কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার জিআরও এসআই হেলালুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর নুর মোহাম্মদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর
আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেলেন মিষ্টি কেড়ে খাওয়া সেই কিশোর
মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নারী নিহত, একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে আসার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নারী নিহত, একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
৫ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে জিআই তার ব্যবহার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়নে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাছানহাট সংযোগ সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার দিয়ে ঢালায়ের অভিযোগ উঠেছে।
৫ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে জিআই তার ব্যবহার
আরও পড়ুন
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
গোসলের সময় ব্যথায় কেঁদে ওঠে ২ বছরের শিশু, কারণ জানতেই হতভম্ব স্বজনরা
১৩ ঘোড়া জবাই করে মাংস সরবরাহের প্রস্তুতি, ৯ জনের কারাদণ্ড
টয়লেটে মাংস ধোয়া ও খাবারে কেমিক্যাল, মানিকগঞ্জের ৩ রেস্তোরাঁকে জরিমানা