নরসিংদীর মাধবদীতে ঘুমন্ত তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের গোপনে বসানো মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ঘটনাটি ধারণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনাটি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামে ঘটে। শিশুটির মা সায়েবা বেগমের দাবি, জন্মের পর থেকেই তার সন্তান অসুস্থ থাকায় বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে বারবার অস্বাভাবিক কান্নার কারণ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি ঘরে গোপনে একটি মোবাইল ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরে সেই ফুটেজে শিশুটির চাচি লতা বেগমকে ঘুমন্ত শিশুর পা মুচড়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে পরিবারের দাবি।
শিশুটির মা জানান, এর আগে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরও পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় নরসিংদী সমাজসেবা অধিদফতর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগমসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
নরসিংদী সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে একই পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলার পর অভিযুক্ত লতা বেগমের বাবা আলমাস মিয়া এবং শিশুটির চাচা কাউসার আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগম এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এমন নিষ্ঠুর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানার কবির জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির পায়ে বড় ধরনের আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাইয়ের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
আরটিভি/এসকে




