দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার খবর ঘিরে লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকায় আবারও উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলার ৫ উপজেলার সীমান্তে বিজিবি নজরদারি জোরদার করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও বিভিন্ন সময় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের লোহাকুচি সীমান্ত এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তবাসী জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টার খবর প্রকাশের পর সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। নিজেদের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্বেচ্ছায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন সময় পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।
সীমান্তবাসী আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে কাউকে যেন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না হয়, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন। কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হলে দুই দেশের প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা করা উচিত। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে কাউকে দেশে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
লোহাকুচি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নাইম মিয়া বলেন, পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক সময় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা সীমান্তবাসীর জন্য উদ্বেগের। তিনি বলেন, শুধু লালমনিরহাট নয়, সারা দেশের সীমান্তেই সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার ৫ টি উপজেলার সঙ্গেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। দেশের অন্যান্য সীমান্তের মতো এখানেও পুশইনের চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে কাউকে পুশইন করতে দেওয়া হয়নি।
আরটিভি/ এসকেডি




