দূষণ-অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে প্রবাহমান খাল

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৩ পিএম


দূষণ-অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে প্রবাহমান খাল
ছবি: আরটিভি

এক সময়ের প্রবাহমান ও প্রাণচঞ্চল পূর্ব শ্যামপুর খাল এখন দূষণ ও অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া খালটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালজুড়ে কালো দূষিত পানি, দুর্গন্ধ এবং বর্জ্যের স্তূপে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুবনেশ্বর নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব শ্যামপুর খাল একসময় এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল। বর্ষা মৌসুমে ছোট-বড় নৌকা চলাচল করত এ খাল দিয়ে। খাল থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয় জেলেরা। কৃষি উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত খালটির পানি।

কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা এবং পলি জমে খালটি ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত বাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এছাড়া পলি জমে খালের উৎসমুখ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় প্রশস্ত ও গভীর খালটি এখন অনেকাংশে সরু ক্যানেলে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও খালে পর্যাপ্ত পানি থাকে না।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খালের কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বিএডিসির অধীনে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভুবনেশ্বরের এই খাল খননের কাজ শুরু হবে।

সচেতন মহলের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চললেও পূর্ব শ্যামপুর খাল এখনও অবহেলিত। দ্রুত খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে খালটি আবারও তার হারানো প্রাণ ফিরে পেতে পারে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission