‘পিচ্চিদের কাঁদাতে ভালো লাগে’ লিখে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট শিক্ষকের

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ  

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১৪ পিএম


‘পিচ্চিদের কাঁদাতে ভালো লাগে’ লিখে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট শিক্ষকের
শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট করা শিক্ষক ইমরান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মাদরাসায় পড়তে আসা একটি শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছিলেন এক শিক্ষক। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিজেই পোস্ট করেন তিনি। আর ভিডিও পোস্টটিতে পাশবিক মন্তব্য করে একটি শিরোনামও দেন ইমরান হোসেন নামের ওই মাদরাসা শিক্ষক। সেখানে তিনি লিখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’।

ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের একটি মাদরাসার। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন মাদরাসাটির সাবেক সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়।

সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। ভিডিওটি তিনি নিজেই পোস্ট করেছেন বলে জানান ওই শিক্ষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদরাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককেও দুই মাসে আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ভিডিওটি তিনি চাকরিতে থাকার সময় ধারণ করেছিলেন বলে তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন

ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং মাদরাসাটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনার পর গতকাল এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না। মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission