চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টা চালক-হেলপারের, লাফিয়ে বাঁচলেন নারী

স্টাফ রিপোর্টার (আশুলিয়া), আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৩৮ পিএম


চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টা চালক-হেলপারের, লাফিয়ে বাঁচলেন নারী
গ্রেপ্তার বাসচালক। ছবি: আরটিভি

ঢাকার আশুলিয়ায় গভীর রাতে চলন্ত লোকাল বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইতিহাস পরিবহন নামে একটি বাসের চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। আত্মরক্ষার জন্য চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচান ওই নারী শ্রমিক। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার এক সপ্তাহ পর শনিবার (১৮ জুলাই) তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন।

এর আগে শনিবার ভোররাতে সাভার মডেল থানার রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া চালকের নাম মো. আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযানে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮৫০৮) জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হেলপারকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী পোশাকশ্রমিক (২৭) আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কর্মরত। গত ১২ জুলাই নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে ঢাকাগামী ইতিহাস পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন। বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রী বাসে উঠতে দেননি। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চালক বাস থামানোর পরিবর্তে আরও দ্রুতগতিতে বাস চালাতে থাকেন।

আরও পড়ুন

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার তার পাশে গিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় চালকও তাকে সহযোগিতা করেন। নিজেকে রক্ষায় জীবন বাজি রেখে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই নারী। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে অন্য একটি বাসের সহায়তায় আশুলিয়া এলাকায় এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন থানায় অভিযোগ করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার বাসটি জব্দ এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক হেলপারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission