খুলনার পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা থেকে বয়ারঝাপা অভিমুখে নির্মিত ইটের সলিং সড়কের একাংশ জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতে ধসে পড়ছে। আমুরকাটা স্লুইস গেটসংলগ্ন খালের পাড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকায় সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে ভ্যানসহ হালকা যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশের আমুরকাটা আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালের পাশঘেঁষা সড়কের দীর্ঘ অংশের ইটের সলিং ভেঙে নিচে নেমে গেছে। কয়েকটি স্থানে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জোয়ারের পর ভাঙনের পরিমাণ আরও বাড়ছে। স্থানীয় লোকজন ঝুঁকি নিয়েই হেঁটে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড়ে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার স্রোত বেড়ে যাওয়ায় খালের পানি সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে।
এই সড়ক দিয়ে আমুরকাটা, বয়ারঝাপাসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমিরণ কুমার মণ্ডল বলেন, শুধু সড়ক সংস্কার করলেই হবে না। খালের পাশে শক্তিশালী পাইলিং বা তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে অল্প দিনের মধ্যেই সড়কের অবশিষ্ট অংশও খালের গর্ভে চলে যাবে।
আমুরকাটা আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, বিদ্যালয়ের দুই পাশের সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। স্লুইস গেটসংলগ্ন খালে অতিরিক্ত জোয়ার-ভাটার কারণে রাস্তা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত পাইলিং করা না হলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষও ঝুঁকিতে পড়বে।
সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মণ্ডল বলেন, সড়কটির অবস্থা খারাপ। ভাঙন রোধ ও সংস্কারের জন্য দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হবে।
পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সড়ক সংস্কার নয়, খালের পাড়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে সড়কের পাশাপাশি বিদ্যালয় ভবনও ঝুঁকিতে পড়বে এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
আরটিভি/টিআর




