ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালির কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ সায়েন্স নামে ওষুধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮টা ৩০ মিনিটে হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমাণ হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে।
কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন।
এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজসহ গৃহস্থালির কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ, তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিম্নমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডা. অরুন কুমার দাস।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারণে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাব না।
অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয়কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।
ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি, খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরটিভি/এমএইচজে




