রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ, ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে নমুনা

পাইকগাছা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৫৭ এএম


রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ, ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে নমুনা
রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে গিয়েছে। ছবি: সৌজন্য

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্তে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, মাংস বিক্রেতার নাম, মুঠোফোন নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যারা ওই বিক্রেতার কাছ থেকে মাংস কিনেছেন, তাদের পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যও সরবরাহ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের জন্য রান্না করা মাংসের নমুনাও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীদের পিকনিকের রান্নায় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে রান্না করা মাংস নিয়ে তারা মাংস বিক্রেতা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও পাইকগাছা থানায় যান।

আরও পড়ুন

মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা জানান, ওই দিন সকালে পাইকগাছা বাজারের একটি দোকান থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা হয়। পিকনিকের জন্য মাংস রান্না করার একপর্যায়ে তারা দেখতে পান, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে মাংস বিক্রেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ভালো মানের মাংস বিক্রি করেছেন। মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি।

পাইকগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা করার সক্ষমতা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেই। প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধাও তাদের নেই।

তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বা কেমিক্যাল পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। মাংসে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মাংসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনো তারা কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।

ওসি বলেন, তিনি নিজেও মাংসের সবুজ রং ধারণের বিষয়টি দেখেছেন। তবে লিখিত অভিযোগ না থাকায় এখন পর্যন্ত আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission