ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মা-মেয়ের আত্মহত্যা

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪৫ পিএম


ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মা-মেয়ের আত্মহত্যা
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার জেরে লোকলজ্জার ভয়ে এক স্কুলছাত্রী (১৪) ও তার মা (৩৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৌর চন্দ্র রায়কে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নারী ছবি রানীর স্বামী ও স্কুলছাত্রীর বাবা রিপেন চন্দ্র রায়। তিনি দাবি করেন, গত ১৯ জুন তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায় একই এলাকার যুবক গৌর চন্দ্র রায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর পুলিশ ২৬ জুন দুজনকে উদ্ধার করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

রিপেন চন্দ্র রায়ের অভিযোগ, পরে মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গৌর চন্দ্র রায় তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে লোকলজ্জা ও মানসিক চাপে গত ১৫ জুলাই তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়াল করতে তার শ্যালক উজ্জ্বল চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন স্বজন এটিকে আত্মহত্যা না বলে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করছেন। এতে তাদের পরিবার আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং মূল অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে নিহত ছবি রানীর ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, রিপেন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে একই গ্রামের এক বিধবা নারীর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার বোন ও ভাগনিকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে।

এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গৌর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ভিডিওটি একটি ভুয়া (ফেক) আইডি থেকে ছড়ানো হয়েছে। তবে তার কাছে থাকা ব্যক্তিগত ভিডিও কীভাবে বাইরে এলো, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি আত্মহত্যার পেছনে কোনো প্ররোচনা, ব্ল্যাকমেইলিং বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission