দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) এক প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহের কথা জানান।
এর পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে চারটি পদ্ধতি উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো একটি কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বিমানবন্দরটি চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য শিল্প ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
প্রায় ৩০ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের পাশে বাগেরহাট, খুলনা ও মোংলার সমদূরত্বে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় প্রকল্পের জন্য ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং আংশিক ভূমি ভরাটের কাজও সম্পন্ন হয়।
তৎকালীন সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও কোনো বিদেশি কোম্পানি বা দেশ এতে বিনিয়োগে আগ্রহ না দেখানোয় নির্মাণকাজ আর এগোয়নি।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, গত মাসে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি যোগাযোগ করে। তাদের সঙ্গে এলাকাটি পরিদর্শন করি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে বলি। গত ৩০ জুলাই তারা বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
চীনা কোম্পানির চিঠিতে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিক সহজ ঋণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) তৈরি, পরিচালনা ও চুক্তি শেষে হস্তান্তর (বিওটি), নকশা তৈরি, মালপত্র কেনা, নির্মাণ এবং অর্থায়ন পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পছন্দের পদ্ধতিটি নির্ধারণ করা যেতে পারে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্লু ইকোনমি, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, পণ্য পরিবহন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর নির্মাণে চীন সরকার ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেই আগ্রহের ধারাবাহিকতায় চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অভাবে বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকরা খুলনায় আসতে চান না। খুলনায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে, অথচ বিমানবন্দর না থাকায় বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো এখানে হয় না। মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো পর্যটন কেন্দ্রের কারণে খুলনার কাছাকাছি একটি বিমানবন্দর খুবই প্রয়োজন।
আরটিভি/টিআর



