সাগরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশ জেলে ও ব্যবসায়ীরা

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:২৫ এএম


সাগরে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশ জেলে ও ব্যবসায়ীরা
ছবি : সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়া ও মাছের আনাগোনা কম হওয়ায় সাগরে মিলছে না ইলিশ। এতে সংকটে পড়েছেন কক্সবাজারের জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ছোট ট্রলারে কিছু সামুদ্রিক মাছ মিললেও ইলিশের দেখা নেই। ফলে ঘাটে মাছের সরবরাহ কমেছে, আর বাড়ছে লোকসানের বোঝা। তবে জেলে ও ব্যবসায়ীদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইলিশের মৌসুম জমে উঠবে।

সরেজমিনে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ঘাটে ভিড়েছে ছোট ছোট ট্রলার। তবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বড় ট্রলার তেমন নেই। ছোট ট্রলারগুলো থেকে নামানো হচ্ছে লইট্টা, চিংড়ি, পোপা, ছুরি ও রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ।

জেলেরা বলছেন, ইলিশ না মিললেও উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় এক-দুই দিনের জন্য জাল ফেললে কিছু সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দামও তুলনামূলক বেশি।

মাছের পরিমাণ কম হলেও দাম ভালো জানিয়ে জেলে কামাল সিকদার জানান, বর্তমানে ছোট ট্রলারগুলো এক থেকে দুই দিনের জন্য উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে যাচ্ছে। সকালে সাগরে গিয়ে বিকেলে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছে, আবার বিকেলে গিয়ে পরদিন সকালে ফিরছে। বর্তমানে এক ড্রাম মাছ ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন


 
জেলে রকিবুল ইসলাম বলেন, ছোট ট্রলারগুলোতে মূলত লইট্টা, চিংড়ি ও পোপা মাছ ধরা পড়ছে। ঘাটে চিংড়ি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং লইট্টা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দামও বেশি রয়েছে।
 
এদিকে সরকারি ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বড় ট্রলার সাগরে গেলেও বারবার বৈরী আবহাওয়া ও সতর্ক সংকেতের কারণে ফিরে আসতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাগরে ইলিশের তীব্র সংকট থাকায় চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ট্রলার অলস পড়ে আছে, আর চলমান খরচে বাড়ছে লোকসান।
 
মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন-উর-রশীদ বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে বিরূপ আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে ইলিশ শিকার ব্যাহত হচ্ছে।
 
সাগরে এখন ইলিশের দেখা প্রায় মিলছেই না জানিয়ে মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার উপকূলে তুলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। এতে একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। ইলিশ না থাকায় আয় নেই, অথচ খরচ চলছেই। ফলে ট্রলার মালিকদের লোকসানের বোঝা দিন দিন বাড়ছে।

আরও পড়ুন


 
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমানে সাগরে ইলিশ প্রায় নেই বললেই চলে। অন্য মাছ কিছুটা মিললেও তা দিয়ে একটি ট্রলার পরিচালনার খরচ ওঠে না। একটি ট্রলার সমুদ্রে পাঠাতে যে ব্যয় হয়, তা বহন করা এখন মালিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
 
ট্রলার প্রতি ১০ থেকে ২৫টি ইলিশ ধরা পড়ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অনেক ট্রলার মালিকের এখন আর সাগরে যাওয়ার মতো মূলধন নেই। যেসব ট্রলার এখনো সাগরে যাচ্ছে, সেগুলোতেও মাত্র  এত কম মাছ দিয়ে ট্রলার পরিচালনার ব্যয় তোলা বা ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে জেলে, ট্রলার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী; সবাই বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
 
ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদের আশা, বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইলিশের প্রকৃত মৌসুম শুরু হবে। আরও ১৫ থেকে ২০ দিন পর আবহাওয়া অনুকূলে এলে ইলিশের প্রকৃত মৌসুম শুরু হবে এবং তখন কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে।
 
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রে এসেছে ১৩৪ টন ইলিশ এবং ৯৬৮ টন অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission