শরীয়তপুরের আলোচিত চেয়ারম্যান ‘বোমা কুদ্দুস' আবারও গ্রেপ্তার

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৬:৩৩ পিএম


শরীয়তপুরের আলোচিত চেয়ারম্যান ‘বোমা কুদ্দুস' আবারও গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা কুদ্দুস ব্যাপারী (৫৫) ওরফে ‘বোমা কুদ্দুস’-কে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ১ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে শরীয়তপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও জাজিরা থানা পুলিশ

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাজিরার বিলাসপুরে ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।

সরকার পরিবর্তনের পর বিলাসপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেলেও এলাকা ছাড়েননি বোমা কুদ্দুস ও তার বাহিনী। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রের তথ্যানুযায়ী তিনি ৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আরও পড়ুন

প্রথম গ্রেপ্তার হন ৩০ অক্টোবর, ২০২৪। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে রিয়াজুল তালুকদার নামে এক কর্মী হত্যা ও স্থানীয় ৪৪টি হত্যা-বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে ঢাকার শান্তিনগর থেকে র‍্যাব-১০ তাকে গ্রেপ্তার করে।

দ্বিতীয় গ্রেপ্তার হন ৬ এপ্রিল, ২০২৫। জাজিরায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় র‍্যাব-৮ ও র‍্যাব-৩ যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তৃতীয়বার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিলাসপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দিতে বোমা বানাতে গিয়ে ৩ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামি হিসেবে তাকে মতিঝিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ আগস্ট বিকেলে তাকে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জাজিরার পদ্মাপাড়ের দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বিলাসপুর ইউনিয়নে কয়েক দশক ধরে আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় নির্বাচন ও সামাজিক কোন্দল নিয়ে সংঘাত চলে আসছে। সংঘর্ষের সময় কুদ্দুস বাহিনী বিপুল পরিমাণ দেশীয় তৈরি হাতবোমা বা ককটেল ব্যবহার করতো বলে স্থানীয়দের দাবি। ককটেল ও বোমাবাজির এই একচ্ছত্র আধিপত্য এবং বোমার কারবার কেন্দ্রিক নেতৃত্বের কারণে এলাকায় তার নাম হয়ে যায় ‘বোমা কুদ্দুস’।

কুদ্দুস ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নে নিজ বলয় গড়ে তোলেন তিনি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জলিল মাদবরের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমে তিনি চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন। এর পর থেকেই চেয়ারম্যান পদ ধরে রাখতে ও প্রতিপক্ষ দমনে এলাকাটিকে একপ্রকার বোমার আখড়ায় পরিণত করেন বলে অভিযোগে রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শুধু জাজিরা থানাতেই নয়, ঢাকা ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সবুজ মুন্সি হত্যা মামলা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলা, ককটেল তৈরিতে বিস্ফোরণে ৩ জন নিহতের মামলাসহ ৬২টি গুরুতর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

বারবার জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও, সর্বশেষ ককটেল দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহতের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আবারও আইনের আওতায় এনেছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission