সন্ত্রাসী ইমনের হুমকির অডিও, এক কোটি বলতেছি এক কোটি নিব

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:২৬ পিএম


সন্ত্রাসী ইমনের হুমকির অডিও, এক কোটি বলতেছি এক কোটি নিব
ডেভিড ইমন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এরই মধ্যে চাঁদা দাবি করে এক ব্যবসায়ীকে দেওয়া ইমনের হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এক কোটি বলতেছি, এক কোটি নিব। চার আনাও কম হবে না।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নগরের এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোনে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। প্রাণনাশের হুমকিতে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওই ব্যবসায়ী তাকে ১০ লাখ টাকা দেন বলে জানা গেছে। তবে ভয়ে তিনি থানায় মামলা করেননি বা পুলিশকেও বিষয়টি জানাননি। যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

ফাঁস হওয়া ৪৩ সেকেন্ডের অডিওতে ইমনকে বলতে শোনা যায়, তিনি লোক পাঠালে দাবি করা টাকার এক টাকাও কম নেবেন না। এমনকি দেশের একজন শীর্ষ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেও কোনো লাভ হবে না বলে হুমকি দেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেন, বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আরও টাকা আয় করা যাবে, কিন্তু প্রাণ না থাকলে সেই টাকার কোনো মূল্য থাকবে না।

এ ঘটনায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব শাহরিয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অনেক আইএসপি প্রতিষ্ঠান জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিয়ে আসছে। ভয়ে তারা পুলিশ কিংবা সংগঠনকেও বিষয়টি জানাতেন না। তবে বর্তমানে পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন, কেউ চাঁদাবাজির শিকার হলে যেন দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ইমনদের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা যাতে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, চাঁদাবাজি বা হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পুলিশকে অবহিত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইমনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পরে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। এর অর্ধেক বিদেশে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো, আর বাকি টাকা নিজের কাছে রাখতেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির আগে ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে গুলি ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হতো। টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটত বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ইমন।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ইমন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বড় সাজ্জাদ নামে পরিচিত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর দলে যোগ দেন। পরে দলের অন্যতম সহযোগী হিসেবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission