ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী যাত্রীদের চাপে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেই ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন রুট থেকে আসা যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক ও স্টাফদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মাথায় গামছা পেচিয়ে চাঁদাবাজির এমন দৃশ্য ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে ‘ঘাট সুপারভাইজার’ পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়েই এমন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) সড়জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীদের যাতায়াতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন রুট থেকে আসা বাস ও যাত্রী এ ঘাট ব্যবহার করে লঞ্চ ও ফেরিতে নদী পারাপার হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নিজেদের ঘাটের দায়িত্বশীল ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে চালক ও স্টাফদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে। চাঁদা আদায়ের এমন দৃশ্য আরটিভির ক্যামেরা ধরা পড়ে। চাঁদা নেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে গেলেই তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।
বাসচালক রফিক, রাজুসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহন স্টাফরা বলেন, ঢাকা থেকে যতবার আমরা যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে আসি, ততবারই ২৫০ টাকা করে দিতে হয়। তারা নিজেদের সুপারভাইজার পরিচয় দিয়ে প্রতিটি গাড়ি থেকে টাকা নেয়। না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানির আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বে থাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. আব্দুল হামিদ খান বলেন, এ ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। ঘাট এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সুযোগ নেই। এমন কোনো ঘটনা নজরে এলে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




