পলিথিন ব্যাগের বিপরীতে তৈরি হবে পাট ব্যাগ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

শুক্রবার, ১২ মে ২০১৭ , ০৮:০২ পিএম


পলিথিন ব্যাগের বিপরীতে তৈরি হবে পাট ব্যাগ

প্লাস্টিক দানার বিপরীতে পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি হবে ব্যাগ। যা সহজে মিশে যাবে মাটির সঙ্গে। এ ব্যাগ প্রচলিত পলিথিনের মতোই হালকা ও টেকসই। এটি দেখতে পলিথিনের মতোই স্বচ্ছ হওয়ায় খাদ্য দ্রব্যাদি ও গার্মেন্টস শিল্পের প্যাকেজিং হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। 

বিজ্ঞাপন

জানালেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মাদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। 

শুক্রবার রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুটমিলে পাটের পলিব্যাগ তৈরির প্রাথমিক পাইলট প্ল্যান্ট উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন তিনি। 

বিজ্ঞাপন

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন,  সরকার পাটজাত পণ্য রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বর্জন  ক্ষেত্রে  কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পাট পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাঁকল, ভিসকস, পাটপাতার পানীয়সহ নতুন নতুন বহুমুখী পাট পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম জানান, ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাটের পলিথিন উৎপাদন শুরু করা হবে। ৩ মাসের মধ্যে বিদেশ থেকে আনা হবে যন্ত্রপাতি। সবকিছু করা হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে। সরকারিভাবে উৎপাদনের পর বেসরকারিভাবেও এই ব্যাগ উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া হবে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হবে এই ব্যাগ। বাজারে যে পলিথিন ব্যাগ আছে তার চেয়ে দেড়গুণ বেশি টেকসই এবং ব্যবহার স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যাবে।  বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত এ পলিব্যাগ দেখতে প্রচলিত পলিথিনের মতোই হালকা, পাতলা ও টেকসই। 

মির্জা আজম আরো বলেন, পাটের সুক্ষ সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে এ ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে। পাটের তৈরি পলিথিন মাটিতে ফেললে তা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। ফলে পরিবেশ দূষিত হবে না। এই ব্যাগ দামে সাশ্রয়ী হবে। এভাবে পাটের ব্যবহার বাড়লে  ন্যায্য দাম পাবেন কৃষক। অতীতের মতোই পাট দিয়েই বিশ্বে সুপরিচিত হবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্লাস্টিক পলিথিন ব্যাগ সুয়ারেজ পাইপ, ড্রেন, নদী, নালা ইত্যাদিতে পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পাটের তৈরি ব্যাগে কোনো প্রকার অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার হয় না বিধায় এটি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এ ধরনের প্যাকেজিংয়ের বিদেশেও অত্যন্ত চাহিদা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিজেএমসিতে এই পচনশীল ব্যাগ তৈরির একটি সেমি-অটোম্যাটিক পাইলট প্ল্যান্ট বসানোর কাজ চলছে। পাইলট প্ল্যান্টটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হলে বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যাগের উৎপাদন করার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।

এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাংসদ মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান, বিজেএমসি চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুলসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এমসি/এসজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission