এলএনজিতে ১০৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ , ০৫:২২ পিএম


১০৭ বিলিয়ন ডলার এলএনজি বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: জিইএম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) অবকাঠামো সম্প্রসারণ চরম অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (জিইএম) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

জিইএম-এর এশিয়া গ্যাস ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মোট ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প নির্মাণাধীন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করা হলে অঞ্চলটি ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিতে পড়বে।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের মোট নির্মাণাধীন এলএনজি আমদানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার পরিমাণ বছরে ১১০.৭ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এমনভাবে তাদের এলএনজি অবকাঠামো পরিকল্পনা করছে যা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে জিইএম-এর গ্লোবাল এলএনজি বিশ্লেষক রবার্ট রোজানস্কি সতর্ক করে বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো এসব মূল্য ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খাবে।

জিইএম-এর প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি প্রকল্পের ব্যর্থতার উচ্চ হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেখা গেছে, গত এক দশকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যে পরিমাণ এলএনজি সক্ষমতা চালু করেছে, তার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। ইউরোপের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় এসব প্রকল্পের ব্যর্থতার হার অনেক বেশি, যা এই অঞ্চলে গ্যাস অবকাঠামোতে বিনিয়োগের আর্থিক ও নীতিগত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও প্রকট। কারণ এদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত ব্যাপকভাবে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। জিইএম-এর তেল-গ্যাস কর্মসূচীর পরিচালক জুই জলি পরামর্শ দিয়েছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে এলএনজি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়া। এলএনজি যে জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, দেশীয় নবায়নযোগ্য উৎস তা দিতে সক্ষম। আইইএফএ-এর বাংলাদেশের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলমও মনে করেন, এলএনজির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অস্থির ও অনিশ্চিত।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। পাকিস্তানে গত তিন বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর পথে রয়েছে। 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission