ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এলএনজিতে ১০৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) অবকাঠামো সম্প্রসারণ চরম অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (জিইএম) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

জিইএম-এর এশিয়া গ্যাস ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মোট ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প নির্মাণাধীন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করা হলে অঞ্চলটি ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিতে পড়বে।

আরও পড়ুন

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের মোট নির্মাণাধীন এলএনজি আমদানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার পরিমাণ বছরে ১১০.৭ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এমনভাবে তাদের এলএনজি অবকাঠামো পরিকল্পনা করছে যা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে জিইএম-এর গ্লোবাল এলএনজি বিশ্লেষক রবার্ট রোজানস্কি সতর্ক করে বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো এসব মূল্য ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খাবে।

জিইএম-এর প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি প্রকল্পের ব্যর্থতার উচ্চ হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেখা গেছে, গত এক দশকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যে পরিমাণ এলএনজি সক্ষমতা চালু করেছে, তার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। ইউরোপের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় এসব প্রকল্পের ব্যর্থতার হার অনেক বেশি, যা এই অঞ্চলে গ্যাস অবকাঠামোতে বিনিয়োগের আর্থিক ও নীতিগত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও প্রকট। কারণ এদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত ব্যাপকভাবে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। জিইএম-এর তেল-গ্যাস কর্মসূচীর পরিচালক জুই জলি পরামর্শ দিয়েছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে এলএনজি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়া। এলএনজি যে জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, দেশীয় নবায়নযোগ্য উৎস তা দিতে সক্ষম। আইইএফএ-এর বাংলাদেশের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলমও মনে করেন, এলএনজির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অস্থির ও অনিশ্চিত।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। পাকিস্তানে গত তিন বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর পথে রয়েছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস রোসাটমের
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস রোসাটমের
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। এতে মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হয়ে পড়ায় সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়ায়। এতে সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু।  এ ছাড়াও স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার মূল্যও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না তার দেশ। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, তেলের দাম কমে আসায় চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে যুক্তি জোরালো হচ্ছে। এতে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং বন্ডের মুনাফার হারও সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে। এমন পরিস্থিতি সোনার দাম পুনরুদ্ধারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হলে অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা বাড়তে পারে। তবে জাবুরাস সতর্ক করে বলেন, সোনার বাজারে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বাজারে এখনো ফেডের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে এবং বন্ডের মুনাফার হারও তুলনামূলক বেশি। এসব কারণে স্বর্ণের দাম আবারও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে সোনাকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনা ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, সোনা থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে। সূত্র: রয়টার্স আরটিভি/এসআর  
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ
বাজারে সরবরাহ প্রচুর, তবুও দাম তুঙ্গে
রাজধানীর কাঁচাবাজারে এসেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে সরবরাহ বাড়লেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে জানিয়েছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কমেছে ডিমের দাম।
বাজারে সরবরাহ প্রচুর, তবুও দাম তুঙ্গে
আবারও বাড়লো সোনার দাম, এবার ভরি কত?
সবশেষ দাম কমানোর পর গত কয়েকদিন দেশে অনেকটা স্থিতিশীলই ছিল সোনার বাজার। তবে, আবারও মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবারের দফায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  এদিন ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে সোনার নতুন দর। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় সোনার গহনার দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে বাজুস।  নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম এখন ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা।  অন্যদিকে,​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। এর আগে, সবশেষ গত ৫ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেই দাম অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনা ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। এদিকে সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। আরটিভি/এসএইচএম
আবারও বাড়লো সোনার দাম, এবার ভরি কত?
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, অক্টোবরের সাতদিনে এলো ৭৭ কোটি ডলার
চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৭৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৯ হাজার ৫২০ কোটি ২০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, অক্টোবরের সাতদিনে এলো ৭৭ কোটি ডলার
আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুর থেকে এলো এলএনজির নতুন আরও এক কার্গো
ঘাটতি হবে না এলএনজির, অক্টোবর-নভেম্বরে আসছে ১৯ কার্গো
এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিলো কাতার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি আসা শুরু