ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চোখ রাঙাচ্ছে গভীর জ্বালানি সংকট

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ক্রমেই বিস্তর ফারাক সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতার কারণে চরম সংকট তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ধাক্কায় আরও গভীর হচ্ছে এ সংকট। একদিকে বিশ্ববাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে রাজস্ব আয় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাম্প্রতিক অস্থিরতা সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে দেশে আবির্ভাব ঘটেছে এলপিজি সংকটের। এখন এলএনজি সরবরাহ চেইনে যদি কোনো কারণে বিঘ্ন হয়, তা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক তৎপরতাকে বড় রকমের বিপদে ফেলতে পারে।

দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫৮ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ, চাহিদা ও সরবরাহে বর্তমানে ঘাটতি থাকছে দৈনিক ১২২ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে, বর্তমানে যে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে তা গত বছরের এ সময়ের (১০ জানুয়ারি, ২০২৫) তুলনায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট কম। ওই সময়ে দেশে গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৭৫ কোটি ঘনফুট।

দেশে গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত পাঁচটি কোম্পানির চারটিরই উৎপাদন গত এক বছরে হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের এ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সমাধান হিসেবে বিপুল অর্থে কেনা হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও অন্তত সাড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকার ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু, সেখানেও রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার নিয়ে পরাশক্তিগুলোর কৌশলে আটকে গেলে আগামীতে গভীর জ্বালানি সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা।

এরই মধ্যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজার থেকে পণ্যটি আমদানিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনের বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশে।

আরও পড়ুন

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে জ্বালানি খাত বিশেষত গ্যাসের সরবরাহ সংকটের এ পরিস্থিতি একদিনের নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে এ পরিস্থিতি অব্যাহত আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল, অর্থনীতির প্রাণশক্তি জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বল্পসময়ে একটা কার্যকর ও টেকসই কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গ্যাসের সরবরাহ সংকট আগের চেয়ে আরও প্রকট হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এলএনজি আমদানির একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। এ সিন্ডিকেটের কারণে রুদ্ধ ছিল স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পথ। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যদি নেওয়া হতো তার প্রভাব আর্থিক ব্যয়ে উঠে আসত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দেশে কর্মরত বেশির ভাগ কোম্পানির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

দেশে গ্যাস উত্তোলনে স্থানীয় তিনটি কোম্পানির পাশাপাশি দুটি বিদেশি কোম্পানি নিয়োজিত রয়েছে। কোম্পানিগুলোর গত এক বছরের গ্যাস উৎপাদনচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চারটি কোম্পানিরই উৎপাদন কমেছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন করেছে ৫ হাজার ৩১৪ এমএমসিএম (মিলিয়ন ঘনমিটার), যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৮৩৭ এমএমসিএম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ৫২৩ এমএমসিএম।

বাপেক্সের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৫৫ এমএমসিএম, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৩৩৪ এমএমসিএম। এক বছরের ব্যবধানে বাপেক্সের গ্যাস উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

দেশের স্থলভাগে বিদেশি কোম্পানি হিসেবে গ্যাস উত্তোলন করছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোম্পানির আওতাধীন গ্যাস ফিল্ডের হিস্যা মোট সরবরাহের প্রায় অর্ধেক। সেখান থেকেও গ্যাস সরবরাহ এক বছরের ব্যবধানে বড় আকারে কমেছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, শেভরনের তিনটি গ্যাস ফিল্ড থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩৬৮ এমএমসিএম, যা আগের বছরে ছিল ১২ হাজার ৪০৭ এমএমসিএম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১ হাজার ৩৯ এমএমসিএম।

দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস উৎপাদনে নিয়োজিত বিদেশি আরেক কোম্পানি তাল্লোর উৎপাদনও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৩৬৯ এমএমসিএম গ্যাস উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরে ছিল ৪২১ এমএমসিএম।

উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে কেবলমাত্র সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল)। গত অর্থবছরে কোম্পানিটি গ্যাস উৎপাদন করেছে ১ হাজার ৩৯২ এমএমসিএম, যা আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ১ হাজার ৭৩ এমএমসিএম।

পেট্রোবাংলা বলছে, স্থানীয় মজুদ-সরবরাহ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিগুলোর উৎপাদনও কমছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন কূপ খনন করে গ্রিডে সংযোগ দেওয়া হলেও তা খুব বেশি কাজে আসছে না। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন গ্রিড থেকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যাচ্ছে। এ কারণে গ্রিডে নতুন করে সরবরাহ যুক্ত হলেও বাড়তি গ্যাসের কোনো ইতিবাচক প্রভাব সার্বিকভাবে পড়ছে না।

স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে জ্বালানি বিভাগ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হয়েছে।

এর আগে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারও বড় আকারে এলএনজি আমদানি করেছিল। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪২ হাজার ৮৪৫ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ২৭৪ কোটি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পরিকল্পিত ১১৫টি কার্গো আমদানি করা হলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর থেকে এ যাবত দেশে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার এলএনজি আমদানি হবে।

দেশে স্থানীয়ভাবে গ্যাসের উত্তোলন বৃদ্ধিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করেছিল। এ দরপত্রে বিদেশি কয়েকটি কোম্পানি তথ্য-উপাত্ত কিনলেও পরে একটি কোম্পানিও দরপত্রে অংশ নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ দরপত্র আহ্বান নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

দেশে এলএনজি সরবরাহে এখন দুটি টার্মিনাল রয়েছে। টার্মিনাল দুটির সক্ষমতা দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের সরবরাহ সংকট মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি করে গ্রিডে দিতে নতুন অবকাঠামো প্রয়োজন। এ বিষয়ে কোনো বড় অগ্রগতি দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। জ্বালানি বিভাগ বলছে, নতুন করে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশ্য, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কোনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে অন্তত তিন বছর সময় প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে এসব টার্মিনাল নির্মাণ করে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তাদের মেয়াদের বেশির ভাগ সময় শেষ হয়ে যাবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু, যেকোনো দেশে বিনিয়োগের আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় বিদেশিরা। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে বিগত সরকারের সময়ে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা বছরের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ পান না। এজন্য রপ্তানিমুখী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের পর বছর এলএনজি আমদানি করে জ্বালানি খাত ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে, এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। যখন থেকে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান কমতে শুরু করেছে তখন থেকে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা প্রয়োজন ছিল, যা বিগত সরকার করেনি। অন্তর্বর্তী সরকারও এখান থেকে বেরিয়ে আসতে বড় কোনো কাজ করতে পেরেছে বলে মনে করছেন না তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, গ্যাস খাতে সহসা কোনো সমাধান নেই। এ খাতে বিনিয়োগ দরকার। বিশেষ করে একটা পদ্ধতি প্রয়োজন, যা দিয়ে নির্ধারিত একটি সময়ের মধ্যে এলএনজি আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে দেশের অর্থনীতি ঠিক রাখা সম্ভব নয়। এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে ধরনের হস্তক্ষেপ চলছে, তাতে আমাদের মতো দেশ যেকোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। ফলে, এ সরকারকে এমন একটা পদ্ধতি নির্ধারণ করে যেতে হবে যাতে পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করতে পারে।

জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের সংকট কাটাতে আমদানি ও স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন দুটোই বাড়াবে সরকার। এক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য এলএনজির আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডবেইজ এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনে বাপেক্সসহ অন্যান্য কোম্পানি কাজ করছে। দুটি নতুন রিগ কেনা হচ্ছে। গভীর ড্রিলিং হচ্ছে। আগে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, সেগুলো সমন্বিত কোনো উদ্যোগ ছিল না, যে কারণে গ্যাস খাতে নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের গ্যাস খাতে সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে সচিব বলেন, স্থানীয় গ্যাস খাতে জরিপে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনায় কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে তা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০০ কূপ খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্পটের ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমিয়ে স্বল্পমেয়াদে (তিন বছর) এলএনজি চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি
বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এ দ্বিতীয় কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৭.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। নতুন কারখানাটিতে প্রায় ২০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ। নতুন কারখানাটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এ ৭ হাজার ২০০ বর্গমিটার জমিতে স্থাপন করা হবে। সেখানে ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, ব্যাগ ও লাগেজের যন্ত্রাংশ, কাগজজাত পণ্য, মুদ্রিত সামগ্রী এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। কারখানাটিতে বছরে ১১ মিলিয়ন জোড়া ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, ২৪ হাজার ঘনমিটার ফোম, দুই লাখ পিস কাটিং বোর্ড এবং আড়াই লাখ পিস কাটিং ডাইস ও মোল্ড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত পণ্য ভারত ও কম্বোডিয়ার জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জুতা কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হবে। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান এ বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার ওপর অব্যাহত আস্থা রাখার জন্য কেপিএসটিকে ধন্যবাদ জানান। কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ বলেন, ‘আমাদের প্রথম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও ক্রয়াদেশ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন আরেকটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ বিবেচনায় এ সম্প্রসারণের জন্য বেপজাকে বেছে নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, এ নতুন উদ্যোগ আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।’  চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোহসীন হাসান, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি
এফবিসিসিআই রপ্তানি গবেষণা সেলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাত ভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন এবং চেম্বারসমূহকে নিয়ে সভা করেছে এফবিসিসিআইয়ের রপ্তানি গবেষণা সেল।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) এফবিসিসিআই’র মতিঝিল কার্যালয়ে উক্ত গবেষণা সেলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। এক সংবাদ বিপ্তিতে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এতে বলা হয়, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, সম্ভাবনাময় খাতসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সম্প্রতি সকল চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনে রপ্তানি গবেষণা সেল গঠণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায়, দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) একটি রপ্তানি গবেষণা সেল গঠন করে। সেলটি মূলত বাজার বিশ্লেষণ, পলিসি অ্যাডভোকেসি এবং বিভিন্ন চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত গবেষণা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে। সেলের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এফবিসিসিআইয়ের সদস্যভুক্ত সকল চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে নিজ নিজ খাতের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানায় সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।  সভায় রপ্তানি গবেষণা সেলের কার্যক্রমের ওপর একটি বিষদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর। সভার মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় সরাসরি এবং ভার্চুয়্যালি অংশগ্রহণ করেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এমসিসিআইর প্রতিনিধি, চাঁদপুর উইমেন চেম্বার, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ হালকা প্রকৌশল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের নেতারা। আরটিভি/এসআর  
এফবিসিসিআই রপ্তানি গবেষণা সেলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
১৩ দিনে এলো ১৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা রেমিট্যান্স
চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৪০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১৭ হাজার ২৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।
১৩ দিনে এলো ১৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা রেমিট্যান্স
দুই দিন বন্ধ থাকবে সোনালী ব্যাংকের সব সেবা
কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) আপগ্রেডেশনের কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের এটিএম সেবা, কার্ড সার্ভিসসহ সব ধরনের ডিজিটাল ও আর্থিক লেনদেন।
দুই দিন বন্ধ থাকবে সোনালী ব্যাংকের সব সেবা
গাছের রসে ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি, গতি ফিরছে যশোরের গ্রামীণ জীবনে
‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’—শত বছরের এই চেনা প্রবাদটি কেবল লোকসংস্কৃতির অংশই নয়, বরং দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। 
গাছের রসে ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি, গতি ফিরছে যশোরের গ্রামীণ জীবনে
আরও পড়ুন
জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সরকারের মহাপরিকল্পনা
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনগণের ভোগান্তি তৈরি করছে: ডা. জাহেদ
জ্বালানি সংকটের কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের অব্যবস্থাপনা: বাণিজ্যমন্ত্রী