২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।
ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।
আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।
এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।
মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।
এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।
আরটিভি/ এমএ




