খেলাপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৩৮ পিএম


খেলাপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
ফাইল ছবি

খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া জোরদার করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান বাড়াতে ‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে খেলাপি ঋণ আদায়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের ক্ষেত্রে আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজ্যুলেশন (এডিআর) ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। 

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে মামলা করার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর ‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এডিআর পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংককে তাদের খেলাপি ঋণের কমপক্ষে ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ ও যোগ্য মধ্যস্থতাকারী (মিডিয়েটর) নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আদালতে মামলা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান হলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ দ্রুত কমানোও সম্ভব হবে।

‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ পরিচালনার জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি যোগ্যতার বিষয়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বীকৃত মধ্যস্থতা প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে তালিকাভুক্ত থাকা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের স্বার্থসংঘাত না থাকা এবং আইন, বাণিজ্য, ব্যাংকিং বা করপোরেট ব্যবস্থাপনায় অন্তত সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকা। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বাণিজ্যিক চুক্তি বা বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এছাড়া, মধ্যস্থতাকারীর ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে এবং দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মিডিয়েশন বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। একই সঙ্গে তার নিরপেক্ষতা, গোপনীয়তা রক্ষা, যোগাযোগ দক্ষতা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সফলতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, কোনো ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি, আর্থিক অনিয়ম বা নৈতিক স্খলনের কারণে চাকরি বা পেশা থেকে অপসারিত ব্যক্তি, ঋণখেলাপি কিংবা আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত কেউ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগযোগ্য হবেন না।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে ‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ঋণ পুনরুদ্ধারের গতি বাড়তে পারে। তবে, এজন্য ব্যাংকগুলোর সক্রিয় উদ্যোগের পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের সহযোগিতাও জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে আদালতের পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করা সময়ের দাবি। সে কারণেই এডিআর ব্যবস্থাকে জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission