একজন জাঁদরেল এমডিকে ডেপুটি গভর্নর চান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ , ১২:০২ পিএম


একজন জাঁদরেল এমডিকে ডেপুটি গভর্নর চান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমন একজন জাঁদরেল ব্যাংক এমডিকে ডেপুটি গভর্নরের পদে বসাতে চান। ব্যাংক খাতের এমডিদের মধ্যে এমন একটি আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ডেপুটি গভর্নরের দৌড়ে এখন পর্যন্ত যাদের নাম এসেছে তারা বলছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে তুলনামূলক অনেক কম বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় তাদের পক্ষে ডেপুটি গভর্নরের পদে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ এত দিন তারা যে ধরনের জীবন যাপন করে আসছেন সেই অভ্যস্ততায় ছেদ পড়বে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের ক্ষেত্রে কতটা স্বাধীনতা তারা পাবেন তা নিয়েও সন্দিহান। এসব কারণে ডেপুটি গভর্নর পদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত দুইজন উচ্চ বেতনে কর্মরত ব্যাংক এমডির নাম জানা গেছে। তারা হলেন- সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডির চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৬ এপ্রিল। এ কারণে ব্যাংক খাতের অনেকের ধারণা হয়তো ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তারও কোনো বক্তব্য পায়নি।

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন বলেন, আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি, তবে লোকমুখে এসব শুনছি। জানি না উৎস কী! কিন্তু আমি এই মুহূর্তে ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কথা একটুও ভাবছি না। সিটি ব্যাংককে আরও উঁচু জায়গায় নেওয়ার মিশন আছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ড. আহসান এইচ মনসুরকে অব্যাহতি দিয়ে গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে সার্স কমিটি করা হয়। ওই কমিটি বিভ্ন্নি যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। সেখান থেকে আসা আবেদনের প্রার্থীদের মধ্যে থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং তাদের মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়ে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাউকে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও তা অর্থমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হতে হবে।

বর্তমানে চারজন ডেপুটি গভর্নর রয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এরা হলেন নুরুন নাহার, ড. মো. হাবিবুর রহমান, মো. জাকির হোসেন চৌধুরী ও কবির আহাম্মদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এক ডেপুটি গভর্নর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরপরই ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মব সৃষ্টি করে দুইজন ডেপুটি গভর্নরকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারও সেই অব্যাহতি মেনে নিয়ে নতুন দুইজন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেয়। তবে ওই সময় যে দুইজন ডেপুটি গভর্নরের চাকরি ছাড়তে হয় তারা ছিলেন অন্যদের চেয়ে অনেক যোগ্য। এভাবে যোগ্যদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম যোগ্যদের দিয়ে চললে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, নিয়োগের আগে দেখতে হবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তিনি দক্ষ কি না। বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ এক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকে ভালো করলে তিনি যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ভালো করবেন এমনটা নিশ্চিত করেও বলা যায় না।

তিনি বলেন, ডেপুটি গভর্নর হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে হোক আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তর থেকে হোক না কেনো নিয়োগ দেওয়ার আগে দেখতে হবে, যে ধরনের যোগ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড একজন ডেপুটি গভর্নরের থাকা দরকার সেসব গুণাবলী ওই ব্যক্তির মধ্যে আছে কি না।

মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, সঠিক জায়গায় সঠিক ব্যক্তিকে বসানো হচ্ছে কি না, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। একজনকে ধরে এনে বসিয়ে দিয়ে তার কাছ থেকে ভালো কাজ আশা করাটাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ইনজাস্টিস করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকে বা বাইরে থেকে নেওয়ার বিষয়ে বড় ধরনের কোনো তফাৎ নেই। তবে সঠিক লোকটাকে সঠিক জায়গায় বসানোটাই হলো মূল চ্যালেঞ্জ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission