ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পেট্রোল পাম্প চালু রাখার আহ্বান মালিক সমিতির

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের সরবরাহ কম ও ভোক্তার চাপ বাড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পেট্রোল পাম্প চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এক বার্তায় এ আহ্বান জানান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি সাময়িকভাবে সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ চাহিদা থাকলেও সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া দেশের সব ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তাদের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে স্টাফদের মারধর ও ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে পাম্প চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা না করে কর্মরতদের নিজ নিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বার্তার অনুলিপি দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, জ্বালানি সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে আরেকটি চিঠিতে রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বাঘাবাড়ি ডিপোসহ দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ অনেক ক্ষেত্রে ট্যাংক লরির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

চিঠিতে বলা হয়, সাধারণত একটি ট্যাংক লরির প্রতিটি চেম্বারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫০০ লিটার হলেও অনেক ক্ষেত্রে ২ বা ৩ হাজার লিটার করে জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং পাম্প মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এতে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে অনেক পাম্প মালিক তেল উত্তোলনে অপারগতা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট তেল বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে পরবর্তীতে এসব তেল কালোবাজারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাজার অস্থিতিশীলতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

এ অবস্থায় পাম্প মালিকদের স্বার্থ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিত চিঠিটি যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হঠাৎ দেশবাসীর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
হঠাৎ দেশবাসীর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা
দেশের রিজার্ভ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের আকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন বা ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এতে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৩৮৩ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। আকু কী? আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৯টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রফতানি হয়, তার মূল্য দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানিসংক্রান্ত লেনদেন আকুর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়। আমদানি বিল পরিশোধ করার ফলে রিজার্ভ সাময়িকভাবে কিছুটা হ্রাস পায়। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসক্যাপ) উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর আকু প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর ইরানের তেহরানে। আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে-বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। আরটিভি/টিআর
দেশের রিজার্ভ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার
টানা তিন লম্বা লাফের পর আবারও কমলো সোনার দাম
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার এই নতুন রেট প্রকাশ করে বাজুস। এদিন সকাল ১০টা থেকেই সোনার নতুন এই রেট কার্যকর হয়েছে।
টানা তিন লম্বা লাফের পর আবারও কমলো সোনার দাম
পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর– এই তিন মাস মানেই পেঁয়াজের বাজারে অস্বস্তি। দশকের পর দশক এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। স্থানীয় উৎপাদনে চাহিদা মেটানো সম্ভব না হওয়ায় এ সময় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলেই দাম বেড়ে যায় হু হু করে। কিন্তু চলতি মৌসুমে দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোচ্ছে দেশ। গত পাঁচ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ৫১ শতাংশের বেশি। কৃষকেরাও পাচ্ছেন লাভজনক দাম। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় গত চার বছরের মধ্যে এ সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে পেঁয়াজের খুচরা মূল্য। কৃষক ও কৃষিবিদগণ জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগে ৯ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ, কৃষি বিভাগের তদারকি এবং অনুকূল আবহাওয়ায় রোগবালাই কম হওয়ায় এবার উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। ফলে এবার আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, এবার পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, দামও স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল প্রায় ২৫ লাখ ১৭ হাজার টন। পরের অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৪৭ হাজার টনে। উৎপাদন আরো বেড়ে ২৯ লাখ ১৭ হাজার টন হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ টন। আর সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৩০ টন। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ৫৩৩ টন, যা শতাংশের হিসাবে ৫১ দশমিক ৩১। কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি শুধু উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বিচার করলে হবে না। দেশের মোট চাহিদা, বীজ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার, সংরক্ষণে ক্ষতি এবং মৌসুমভিত্তিক সরবরাহের হিসাবও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন মৌসুমে দাম পড়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশীয় উৎপাদনের সুফল কৃষক ও ভোক্তা-দুই পক্ষই পাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ২ হাজার ২৯ টন। এর পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টনে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি ৬ লাখ ৫ হাজার টনে নামে। চাহিদা পূরণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আনা হয় ৪ লাখ ৭৪ হাজার টনের মতো। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি নেমে এসেছে মাত্র ৮৬ হাজার ৩৯৮ টনে। আর চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনই হয়নি, চাহিদা পূরণ হচ্ছে নিজেদের জোগান দিয়েই।  দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বছরে প্রায় ৩০ লাখ টনের মতো পণ্যটির চাহিদা। সংরক্ষণ ও পরিবহনজনিত অপচয় বা পোস্ট হারভেস্ট লস বিবেচনায় নিলে এ চাহিদা দাঁড়ায় ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে পেঁয়াজের পোস্ট হারভেস্ট লস ২৫ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় কমানোও দেশের পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আমদানি বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার উৎপাদন মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই আমদানি নীতি নির্ধারণে কৃষকের ন্যায্যমূল্য ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা দুটিকেই গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর দেশে সংরক্ষিত পেঁয়াজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৪ টনে। সংরক্ষণে কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পেঁয়াজের একটি বড় সমস্যা হলো সংরক্ষণকালীন পচন ও ওজন কমে যাওয়া। প্রচলিত পদ্ধতিতে যথাযথ বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হতে পারে। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও মৌসুমের পরবর্তী সময়ে বাজারে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সমস্যা মোকাবেলায় কৃষক পর্যায়ে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের চার হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেয়া হয়। আর গত অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে চার হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে বিতরণ করা হয় ১৫ হাজার মেশিন। এর বাইরে অন্য কর্মসূচির আওতায় দেয়া হয়েছে আরো ৩ হাজার ৭০০টি মেশিন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় তিন লাখ টন। সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ইতোমধ্যে নতুন এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত ওই নিয়মে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে দেশ পেঁয়াজে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের উৎপাদন ও মজুতের নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ, কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভরতা কমানোর বাস্তব সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দেওয়া। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, ভোক্তা যেন সাশ্রয়ী দামে পেঁয়াজ কিনতে পারেন এবং সংরক্ষণের অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ নষ্ট না হয়-এই তিন লক্ষ্য পূরণ করতে পারলেই পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সুফল দেশের মানুষ পাবে। আরটিভি/টিআর
পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ
ন্যুনতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ নির্ধারণ
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় সভায় বসছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শিল্প শাখা থেকে জারি করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী। সভায় আলোচ্যসূচিতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকতে পারে। প্রথমত, পোশাকশিল্পের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাদের প্রস্তাবিত মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব জমা দেবেন। দ্বিতীয়ত, পোশাকশিল্পে নিয়োজিত সব গ্রেডের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি হার নিয়ে আলোচনা হবে। গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। বুধবার (৪ নভেম্বর) বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে বোর্ডের প্রথম সভা হয়। আগের সভায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, তারা আগামী সভায় তাদের প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো জমা দেবেন। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/টিআর
ন্যুনতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ নির্ধারণ
আরও পড়ুন
গ্রাম পুলিশ তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি: জহির উদ্দিন স্বপন
সোনারগাঁও হোটেল ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
পদোন্নতি পেলেন ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক
শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮