ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ লাগতে শুরু করেছে দেশেও। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ অব্যাহত থাকায় বিশ্বজুড়ে অনেক দেশই এখন তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত তেমন তীব্র সংকটের মুখে না পড়লেও সরবরাহে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর এই অনিশ্চয়তার সুযোগ কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মজুতদাররা।
জ্বালানির সরবরাহে চলমান এই অস্থিরতার প্রভাবে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে পণ্য পরিবহনে। বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পর্যায়েই। আর এর ফলে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, বেনাপোল, খুলনা এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া এরই মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বেনাপোল রুটের চালকরা বলছেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাকভাড়া ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।
খুলনার ব্যবসায়ীরা বলছেন, পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় এর প্রভাব দ্রুত বাজারে পড়ছে।
বগুড়ার হিমাগার মালিকরা বলছেন, এখন আলু পরিবহনের ভরপুর মৌসুম। কিন্তু, গাড়ি নিয়মিত বের করা যাচ্ছে না। আবার বের করলেও তেলের সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।
অনেক ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালক এই ভাড়া বৃদ্ধির দায় চাপাচ্ছে পরিবহণ মালিকদের ওপর। তারা বলছেন, আসলে দেশে তেলের, বিশেষ করে ডিজেলের, তেমন সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত তেল নিয়েই ট্রাকগুলো চলাচল করছে। তেল সংকটের অজুহাতে ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়েছেন মালিকপক্ষ।
তবে, পরিবহন মালিকদের দাবি, সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় ভাড়ার ওপর প্রভাব পড়ছে।
বেনাপোল ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন গাজি বলেন, দেশে পেট্রোল-অকটেনের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু, ডিজেলের তেমন সমস্যা নেই। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ে তেল না পাওয়ার প্রভাব ভাড়ায় পড়তে শুরু করেছে। পাম্পে চাহিদার অর্ধেক তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মজুতদারির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের।
এদিকে, ডিপো থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ হলেও চট্টগ্রামের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন এখনো বন্ধ রয়েছে বা রেশনিং করে জ্বালানি বিক্রি করছে। পাম্প মালিকরা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং প্রত্যাহার করা হলেও বাস্তবে তা এখনো চলছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিয়মিত জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে বলে জানালেও পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় এবং অনিয়মিত ডেলিভারির কারণে ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখা যাচ্ছে না।
আরটিভি/এসএইচএম




