পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৪৭ পিএম


পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত, প্রাণবন্ত ও গতিশীল করতে সরকারের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি সোমবার(৬ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (নোয়াখালী-৫)-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজি বাজারকে শক্তিশালী ও টেকসই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিরলসভাবে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারেও এ খাতের উন্নয়নে নির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আর্থিক পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বাজারের গভীরতা বাড়াতে শক্তিশালী বন্ড বাজার গড়ে তোলা, মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা ও তালিকাবহির্ভূত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সুকুক (ইসলামিক বন্ড) ও গ্রিন বন্ড চালু, মিউচুয়াল ফান্ডে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কমোডিটি ও ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধ, তদন্ত ও প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার, বাজার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন, দেশ-বিদেশ থেকে সহজে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা ও কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের বিএসইসি আইন একীভূত করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ২০২৫-এর খসড়া পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এছাড়া অবণ্টিত লভ্যাংশ, আইপিও তহবিল ও অদাবিকৃত শেয়ার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬-এর খসড়াও পর্যালোচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ ও টেকসই বন্ড অন্তর্ভুক্ত করে ডেট সিকিউরিটিজ রুলস ২০২১ সংশোধন এবং অডিটর ও অডিট ফার্ম তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে।

বিনিয়োগ সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং জেলা তথ্য অফিসগুলো জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। ‘নিরাপদ বিনিয়োগ, সচেতন নাগরিক’ কর্মসূচির আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘পুঁজিবাজারের জানা-অজানা’ শিরোনামে পাক্ষিক বিনিয়োগ শিক্ষা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission