ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারের লক্ষ্য

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা: অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী সোমবার (৬এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে- এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট খাত নয়, বরং বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাস আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সবগুলো ক্ষেত্রকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব কমাতে উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এতে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে মাথাপিছু আয়ও বাড়বে।

বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন কারখানা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে।

তিনি জানান, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের কাজ চলছে। একইসঙ্গে প্রবাস আয় বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ আয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙা হবে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের একটি অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, আর বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৮ মাসে বিদেশ গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার
বিশ্বের ১০৯ দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা পাড়ি জমিয়েছেন। একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৮ মাসে বিদেশ গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার
এলপিজির বাজার তদারকিতে যেসব নির্দেশনা দিল সরকার
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
এলপিজির বাজার তদারকিতে যেসব নির্দেশনা দিল সরকার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। 
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে ১২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ
ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।  বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি ওমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং পরে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক’
নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী
আমদানি নির্ভর জ্বালানি থেকে বের হতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু