বন্ধ কল-কারখানা সচল করতে কম সুদে ঋণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব কারখানার ক্রয়াদেশ পাবে ও পণ্যের বাজার চাহিদা রয়েছে, তারা এই তহবিলের সুবিধা পাবে। তহবিলসুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাংকের কাছে বন্ধ কারখানার তালিকা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রোববার (৩ মে) এ নিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বৈঠকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বন্ধ যেসব কারখানা বাজার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব কারখানা চালু করতেই মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কারখানা যদি ঋণখেলাপি হয়ে থাকে, তাহলে তহবিলসুবিধা দেওয়ার আগে সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিলের সুবিধা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহেই বন্ধ কারখানা চালুর জন্য তহবিল গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শুক্রবার মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দল আয়োজিত এক সমাবেশে ঘোষণা দেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালুর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।
তহবিল সহায়তা ছাড়াও আরো কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত ১৯ সদস্যের কমিটি একটি প্রতিবেদন দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত কমিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটিতে চার জন নির্বাহী পরিচালক, ছয় জন পরিচালক, পাঁচ জন অতিরিক্ত পরিচালক এবং এক জন করে যুগ্মপরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক রয়েছেন।
এই কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন বৈঠকে বন্ধ কারখানা সচল করার কথা বলে আসছেন। গত শনিবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো আবার চালু করতে শিগগিরই প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হবে। তবে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেসব ভালো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে তা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতি, অর্থ পাচারসহ বড় অপরাধে জড়িত না এ রকম কারখানাকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কারখানা সচল করতে কম সুদে তহবিল সহায়তা ছাড়াও অন্য কী ধরনের সুবিধা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে পরামর্শ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত কমিটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মোটাদাগে তিনটি পরামর্শ পাওয়া গেছে। এগুলো হচ্ছে ঋণ নিয়মিত করে কারখানা সচলের জন্য ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিল করা, কারখানা চালুর সঙ্গে সঙ্গে তহবিল সহায়তা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনে কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া। কারখানা বন্ধ হওয়ার আগে গ্রাহকের আচরণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো এ সুবিধা দিতে পারবে। এসব পরামর্শ এলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়নে গড়ে ওঠা বন্ধ কারখানার তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে। এসব কারখানা পুনরায় চালুর জন্য কি করা যায় সে বিষয়ে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর




