বাজেটে যাদের জন্য রেল টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড়

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৫ পিএম


বাজেটে যাদের জন্য রেল টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড়
বাজেটে যাদের জন্য রেল টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রেলভাড়ায় বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে সরকার।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র প্রকাশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী যাত্রীরা নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে টিকিটের ভিত্তি মূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।

বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।

অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে বিদ্যমান সুবিধা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ রেয়াত পাবেন।

এছাড়া নতুন করে সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) শ্রেণির টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য ফি বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য থাকবে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এ সুবিধা অনলাইন ও কাউন্টার, উভয় মাধ্যমেই প্রযোজ্য হবে।

এজন্য যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমে নিবন্ধিত হতে হবে এবং এনআইডি যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে। পরিপত্র অনুযায়ী, একজন প্রবীণ যাত্রী প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ দু’বার ২৫ শতাংশ ছাড় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

কোনো ডিসকাউন্টেড টিকেট ফেরত দেওয়া হলে সেটি সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং ওই সপ্তাহেই পুনরায় ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এছাড়া কোনো প্রবীণ ব্যক্তি সহযাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করলে সহযাত্রীর জন্য নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে।

তবে সহযাত্রীও যদি ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব হন, তাহলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ যাত্রীও ছাড় সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে তাকে নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পৃথকভাবে যাচাইকৃত হতে হবে। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ক্ষেত্রে আপাতত শুধু স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয়ের সময় এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাতেও এ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নতুন এই ভাড়া ছাড় সুবিধা গত ২৫ মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission