২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে করহার শূন্য শতাংশের প্রস্তাব

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০৯:৫৬ এএম


২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে করহার শূন্য শতাংশের প্রস্তাব
সৌরবিদ্যুৎ খাতে করহার শূন্য শতাংশের প্রস্তাব।ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে করহার শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার বিদ্যমান ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া রিফাইনারির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে করের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস সৌরবিদ্যুতের প্রসারে এ খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের আশা, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয় ট্রান্সফরমার শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদও ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

একই সময়ে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission