বিশ্ববাজারে আরও কমল সোনার দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ০৪:৫৭ পিএম


বিশ্ববাজারে আরও কমল সোনার দাম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির আভাসে ডলারের দাম বিশ্ববাজারে ক্রমাগত বাড়ছে। এর বড় ধাক্কা লেগেছে বিশ্ববাজারের সোনার দামে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই বহুমুখী অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এর জেরে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে সোনার আন্তর্জাতিক দর।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮১ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আজকের দিনের লেনদেনে এটি গত ১১ জুনের পর সবচেয়ে নিচে নেমে যায়। একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৯৮ দশমিক ৭০ ডলারে নেমেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার(২৩ জুন) একটি বড় দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তেহরান এই দাবি সরাসরি ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের অতিরিক্ত ছাড় দেয়নি। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে আবার বড় প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি ইরানের বিদেশে জব্দকৃত তহবিলে দেশটির প্রবেশাধিকার নিয়েও এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ঐক্যমত হয়নি।

টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি মূলত যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের প্রতিফলন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সোনার ওপর যে একধরনের মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিক রূপ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বন্ডের দাম কমেছে। তবে একই সময়ে মার্কিন ডলারের দাম বেশ ভালো রকম বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অনুৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেকটাই কমে গেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম এ পর্যন্ত প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে বাজার মনে করছে। মূলত এই আশঙ্কাই সোনার বড় ধরনের দরপতনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

মার্কিন ডলার এখন এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ডলারের দাম বাড়ার ফলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোনা কেনা আরও অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি বছরে মার্কিন ফেডের অন্তত তিন দফা সুদের হার বাড়ানোর তীব্র সম্ভাবনা দেখছেন। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও বাজারে ধারণা ছিল, হয়তো মাত্র একবার এই হার বাড়ানো হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী বৃহস্পতিবার(২৫ জুন) প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্যের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড মূলত দেশের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করার ক্ষেত্রে এই পিসিই সূচককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাক আরও বলেন, যদি সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়, তবে এর পরবর্তী সাপোর্ট স্তর বা সমর্থন স্তর হতে পারে ৩ হাজার ৮০০ ডলার। এর পরও পতন অব্যাহত থাকলে দাম ৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নেমে যাওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পিসিই তথ্য কেমন আসে, মূলত তার ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করছে সোনার দামের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission