মুরগির দামে বড় লাফ, গাজর-মরিচে সেঞ্চুরি

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৬ এএম


মুরগির দামে বড় লাফ, গাজর-মরিচে সেঞ্চুরি
মুরগির দামে বড় লাফ, গাজর-মরিচে সেঞ্চুরি। ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়াও বেড়েছে অধিকাংশ মাছের দাম। সেই সঙ্গে আগের মতো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি, সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছে গাজর-মরিচ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বাড়ান কারণ ব্যাখ্যা করে বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, ব্রয়লারের সরবরাহের উপরে দাম নিয়ন্ত্রণ হয়। যেদিন সরবরাহ বেশি সেই দিন দাম কম। আজকে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। গত সপ্তাহের তুলনায় ২০–৩০ টাকা বেড়েছে।

আরও পড়ুন

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে রুই মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি মাছ। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ির দাম ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা। কিছু বড় আকারের চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাব্বির রেজা বলেন, বাজারে মুগির দাম আগের তুলনায় বেশি। ২০০টাকার নিচে কোন মাছ নেই। চাষের মাছের দাম কিছুটা কম হলেও সামুদ্রিক মাছে তো হাতই দেওয়া যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে জীবন চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বাজারে মিনিকেট, নাজিরশাইল ও বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। নতুন করে দাম না বাড়লেও সেই বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে ​মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়।​ নাজিরশাইল কিনতে হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি।

অন্যদিকে ভরা বর্ষায় বাজারে প্রতি কেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের মান ও জাতভেদে দাম ৬০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা হলেও দেশি শসার কেজি ১০০ টাকার বেশি।

এ ছাড়া গাজর ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ থেকে বাজার ভেদে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং সজনের ডাঁটা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকেও বর্ষার প্রতিফলন নেই। শাকের বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি। কলমি শাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা এবং কচুশাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর অধিকাংশ নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখার জন্য সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ বাজারেই দৃশ্যমান কোনো মূল্যতালিকা নেই। 

ফলে ক্রেতাদের পণ্যের প্রকৃত দাম যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্য বাজারভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হলেও তা তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। 

ক্রেতাদের অভিযোগ, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং বাজার মনিটরিংয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।

ফলে ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে সংসারের খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission