ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি এখন এক মহাযন্ত্রণা: বাণিজ্যমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি এখন একটি মহাযন্ত্রণা বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে ব্রাক সেন্টার ইনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মূল্যস্ফীতি সবার জন্যই ‌‘পেইন’ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তারল্য, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে তা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে বেশি থাকার অন্যতম কারণ উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়। বিশ্বে যেখানে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে বাংলাদেশে এই ব্যয় প্রায় ১৬ শতাংশ।

এই ব্যয় কমানো গেলে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আরও পড়ুন

মন্ত্রী বলেন, বাজারে তথ্যের অসমতা কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। টানা কয়েক বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলেও কৃষকেরা একই পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। এতে বোঝা যায়, কৃষকের কাছে বাজারের সঠিক তথ্য এবং বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে না।

কৃষিপণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও সম্ভাব্য বাজারমূল্য সম্পর্কে কৃষকদের আগাম তথ্য সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে পণ্যটি কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, কীভাবে পরিবহন করা হয়েছে, কোন কোন পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং কোথায় কত ব্যয় বা মূল্য সংযোজন হয়েছে— তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং অস্বাভাবিক ব্যয়ের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।

বাজারে বিদ্যমান অনানুষ্ঠানিক ব্যয়ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির মতো অদৃশ্য খরচ আছে যা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে, এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ কৃষক পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাদের সঞ্চয়ের সুযোগ খুবই কম। ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতায় বিনিয়োগের সক্ষমতাও সীমিত। এজন্য কৃষিকে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং সার, বীজ ও সেচ সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তবে, এখন কৃষিকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় এসেছে। দেশের মাটি, জলবায়ু ও কৃষির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি শিল্পের মতো নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হয় না। এই খাত প্রকৃতি, আবহাওয়া এবং বিভিন্ন বাহ্যিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। তাই জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এগুলো হলো— লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়লে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তাদের কাছে সহনীয় দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করাও সহজ হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাজিদ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ কমে ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন (তিন হাজার ৬১২ কোটি ৩৫ লাখ) ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে। বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। এর আগে এ মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দামও কমেছে। এ মানের সোনার দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা। এর আগের দাম ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, এ ধরনের সোনার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা। আগে দাম ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা। সোনার দাম কমানো হলেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বাজুস। সর্বশেষ নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা এবং প্রতি গ্রাম ৩৭০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা। প্রতি গ্রামের দাম ৩৫৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং প্রতি গ্রামের দাম ৩০৫ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং প্রতি গ্রাম ২৩০ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে সোনা ও রৌপ্যের অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দেওয়ার পর অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আরটিভি/এসকে
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের পরিবেশগত সুরক্ষা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সাথে বিজিএমইএ এর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মারা কে. ওয়ারউইক এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সাথে মতবিনিময় করেন। বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে আলোচনায় আরও অংশ নেন পরিচালক ড. মো. হাসিব উদ্দিন। বৈঠকের শুরুতেই  বিজিএমইএ সভাপতি বলেন যে, পানি ব্যবস্থাপনা এখন কেবল একটি পরিবেশগত বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সাথে সরাসরি জড়িত। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো, পোশাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে পানির ব্যবহার হ্রাস, বর্জ্যপানি পরিশোধন এবং পানি রিসাইক্লিংয়ের ডেটা বা তথ্যকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছেন। তাই, ঢাকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার পাশাপাশি রপ্তানি বাজার টিকিয়ে রাখতে পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সভায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ এবং এর আওতাধীন ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভিজিএফ পাইলট প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ৩১টি কারখানার একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তাব করা হয়েছিল, যার মধ্য থেকে বিশ্বব্যাংক ৮টি কারখানা নিয়ে কাজ শুরু করবে। তবে টেকসই প্রযুক্তির প্রতি দেশীয় পোশাক কারখানাগুলোর বিপুল আগ্রহ ও চাহিদার তুলনায় এই ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং নির্বাচিত কারখানার সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই বাস্তবতায় বিজিএমইএ সভাপতি প্রকল্পের তহবিল এবং সামগ্রিক পরিধি আরও বড় পরিসরে বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল বিজিএমইএ নেতাদের প্রস্তাবগুলোকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে লজিস্টিকস ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন লিড ওয়াটার স্পেশালিস্ট ডেভিড মেলকম লর্ড, সিনিয়র ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন স্পেশালিস্ট রোকেয়া আহমেদ, ওয়াটার স্পেশালিস্ট মো. মাহাদী হাসান এবং এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট বুশরা নিশাত। আরটিভি/টিআর
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক
টোকিওর ফ্যাশন মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন
জাপানের টোকিও বিগ সাইটে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করা হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন। মেলার স্টলগুলো তিনি ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। খবর তথ্যবিররণীর। পরে টোকিও বিগ সাইটের এক্সিবিশন হলে ‘বাংলাদেশ : সোর্সিং এক্সিলেন্স ফর অ্যাপারেল, হোম টেক্সটাইল এন্ড লেদার প্রডাক্টস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের জাপানি আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, ট্রেডিং হাউস এবং দু’দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে মো. দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি উৎপাদনকারী দেশই নয় বরং জাপানি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সোর্সিং এবং বিনিয়োগের অংশীদার। অ্যাপারেল, টেক্সটাইল, চামড়া ও পাদুকা, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকস, আইটিইএস এবং এগ্রো-প্রসেসিংয়ের মতো খাতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে।   প্রতিযোগিতামূলক দাম, দক্ষ ও তরুণ কর্মী বাহিনী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সুবাদে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে পণ্য সরবরাহ করছে বলেও জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক দেশ, যেখান থেকে বার্ষিক প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়। এখন বাংলাদেশ ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম, জারা, ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম আস্থার প্রতীক।   তিনি বলেন, এছাড়া পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৩০টিরও বেশি এলইইডি সার্টিফাইড গ্রিন গার্মেন্টস কারখানা।  চামড়া ও পাদুকা খাত সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানান, এটি আরএমজির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত, যার বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে।   এছাড়া, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।  জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহ— বিশেষ করে অ্যাপারেলস, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান ও দামের বিষয়টি তুলে ধরেন।   তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে উৎপাদিত হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্যগুলোর মান অত্যন্ত উচ্চমানের বলে উল্লেখ করেন। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অধীন ২৫টি বাংলাদেশি কোম্পানির ২৭টি বুথের পাশাপাশি আরো পাঁচটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। আরটিভি/টিআর
টোকিওর ফ্যাশন মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা
মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ